মিরপুরে নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি নিউজিল্যান্ড। তার বিধ্বংসী স্পেলে কিউইরা বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয়; মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায়। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট শিকার করেন এই তরুণ পেসার। সফরকারীদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৩ রান করেন নিক কেলি। ফলে সিরিজে সমতা ফেরাতে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯৯ রান।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের পেস আক্রমণ ছিল শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত ও আগ্রাসী। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে মাত্র ২৮ রান খরচায় ২ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ, যার দুটিই নেন নাহিদ। তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম প্রথম চার ওভারে মেডেন দিয়ে কিউইদের চেপে ধরেন, স্কোরবোর্ডে তখন ছিল মাত্র ৩ রান।
পঞ্চম ওভারে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন নিক কেলি, টানা দুই চার হাঁকান তিনি। তবে বাংলাদেশের বোলাররা রান আটকে রেখে চাপ বজায় রাখে। অষ্টম ওভারে বল হাতে নিয়েই নাহিদ আঘাত হানেন। হেনরি নিকোলসকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান তিনি। পরের ওভারেই উইল ইয়াংকে ক্যাচ বানিয়ে নিজের দ্বিতীয় শিকার পূর্ণ করেন নাহিদ।
এরপর সৌম্য সরকারের দুর্দান্ত ক্যাচে আউট হন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম লাথাম। ৫২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় কিউইরা। তবে নিক কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাস জুটি গড়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন।
কেলি ধীরে ধীরে ফিফটির দিকে এগিয়ে যান এবং ২৭তম ওভারে পৌঁছান অর্ধশতকে। কিন্তু সেট ব্যাটারদের কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। আব্বাসকে ফিরিয়ে দেন নাহিদ, আর কেলিকে ৮৩ রানে থামান শরিফুল ইসলাম।
এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ভেঙে পড়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ। জশ ক্লার্কসনকে আউট করেন রিশাদ হোসেন, ডিন ফক্সক্রফট ফেরেন নাহিদের শিকার হয়ে। শেষদিকে শরিফুল ও তাসকিনের চাপের সামনে টিকতে না পেরে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা।
নাহিদ রানা ম্যাচ শেষ করেন ৩২ রানে ৫ উইকেট; যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট শিকার। এই স্পেলই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং বাংলাদেশকে সিরিজে ফেরার বড় সুযোগ এনে দেয়।