নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আসন্ন আসরের গ্রুপ নির্ধারণ সম্পন্ন হয়েছে। আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) ঢাকা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ড্র শেষে ছয়টি অংশগ্রহণকারী দলকে দুই গ্রুপে ভাগ করা হয়। ড্র শেষে নিশ্চিত করা হয়েছে, বাংলাদেশ পড়েছে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে।
টুর্নামেন্টের ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত এবং মালদ্বীপ। অন্যদিকে ‘এ’ গ্রুপে জায়গা পেয়েছে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। ফলে দুই গ্রুপেই প্রতিযোগিতা তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ হলেও ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশকে ভারতের মতো অভিজ্ঞ দলের মুখোমুখি হতে হবে, যা গ্রুপ পর্বকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে।
আগামী ২৫ মে থেকে শুরু হয়ে ৬ জুন পর্যন্ত চলবে এবারের নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। এই আসরে বাংলাদেশ নামছে টানা তৃতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে। এর আগে ২০২২ ও ২০২৪ সালের আসরে বাংলাদেশ নারী দল শিরোপা জিতে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। দু’বারই ফাইনালে নেপালকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করে দলটি, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মারিয়া মান্দা ও ঋতুপর্ণা চাকমার মতো খেলোয়াড়রা।
অন্যদিকে ইতিহাস বলছে, নারী সাফের প্রথম পাঁচ আসরের সবকটিতেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। ফলে এবারের টুর্নামেন্টে আবারও ভারতকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে; বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রুপে থাকায় ম্যাচটি নিয়ে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ড্রয়ের আগে ফিফা নারী র্যাঙ্কিংও হালনাগাদ করা হয়। সেখানে বাংলাদেশ আগের অবস্থানেই থেকে গেছে, অর্থাৎ ১১২ নম্বর স্থানে রয়েছে। তবে দলের রেটিং কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ১১৬৫.৫৭, যা আগের তুলনায় ৪.৮৭ পয়েন্ট কম। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সেও বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং সময় গেছে, বিশেষ করে মার্চে অনুষ্ঠিত নারী এশিয়ান কাপের ম্যাচগুলোতে।
ওই টুর্নামেন্টে ‘বি’ গ্রুপে চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে খেলেছিল বাংলাদেশ। তিনটি ম্যাচেই হারতে হয়েছে দলটিকে। এবং পুরো আসরে কোনো গোল করতে পারেনি তারা। বিপরীতে ১১ গোল হজম করেছে দলটি, যা বড় টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার একটি কঠিন চিত্র তুলে ধরেছে।