লিওনেল মেসির পা থেকে যেন থামছেই না জাদু। ম্যাচজুড়ে দারুণ নৈপুণ্যে আবারও ইন্টার মায়ামিকে জয়ের পথে হাঁটালেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। সিনসিনাটির মাঠে রোমাঞ্চে ভরা ম্যাচে দুই গোল ও এক অ্যাসিস্ট করে দলের ৫-৩ গোলের জয়ে সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন তিনিই।
আজ বৃহস্পতিবার ভোরের ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে দুই দল। তবে প্রথম হাসিটা হেসেছে মায়ামি। ম্যাচের ২৪ মিনিটে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডার বল ক্লিয়ার করতে গেলে সেটি গিয়ে লাগে মেসির পায়ে, সেখান থেকেই বল জড়িয়ে যায় জালে। কিছুটা ভাগ্যের সহায়তা থাকলেও গোলের পেছনে মেসির উপস্থিতিই ছিল সবচেয়ে বড় পার্থক্য। তবে পিছিয়ে থেকেও দমে যায়নি সিনসিনাটি। ৪১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান কেভিন ডেঙ্কি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে স্বাগতিকরা। ৪৯ মিনিটে পাভেল বুচার গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সিনসিনাটি। কিন্তু মেসি থাকলে ম্যাচ যে কোনো সময় বদলে যেতে পারে, সেটাই আবারও দেখা গেল।
৫৫ মিনিটে রদ্রিগো ডি পলের বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে দুর্দান্ত শটে সমতায় ফেরান মেসি। এই গোলের মাধ্যমে এমএলএসের নিয়মিত মৌসুমে ৬৫ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৬১-তে। একই সঙ্গে ১২ গোল নিয়ে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসেন তিনি। এরপরও নাটক শেষ হয়নি। ৬৪ মিনিটে ইভান্দার ফেরাইরার দারুণ শটে আবারও এগিয়ে যায় সিনসিনাটি। ম্যাচ তখন পুরোপুরি রোমাঞ্চে ভরা।
কিন্তু শেষ মুহূর্তের ঝড়ে সব ওলটপালট করে দেয় ইন্টার মায়ামি। ৭৯ মিনিটে মেসির বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান মাতেও সিলভেত্তি। এরপর ৮৪ মিনিটে সিনসিনাটির রক্ষণভাগ ও গোলকিপারের ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে মায়ামিকে লিড এনে দেন জার্মান বের্তেরাম।
ম্যাচের একদম শেষ দিকে আবারও আলোচনায় মেসি। ৮৯ মিনিটে তার নেওয়া শট পোস্টে লেগে গোলকিপারের গায়ে লাগে, পরে জালে জড়িয়ে যায় বল। প্রথমে সেটিকে মেসির হ্যাটট্রিক গোল মনে করা হলেও পরে আত্মঘাতী গোল হিসেবে সিদ্ধান্ত দেয় এমএলএস কর্তৃপক্ষ।
এই জয়ের ফলে প্রতিপক্ষের মাঠে টানা সাত ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েছে ইন্টার মায়ামি। ১৩ ম্যাচে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে। সমান ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে ৮ নম্বরে আছে সিনসিনাটি। আর এক ম্যাচ কম খেলে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ন্যাশভিল এসসি।