নেপালের বিপক্ষে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ঋতুপর্ণা চাকমার এক শটেই বদলে যায় ম্যাচের গল্প। কর্নার থেকে নেওয়া তার অবিশ্বাস্য গোল শুধু বাংলাদেশকে সমতায় ফেরায়নি, ফুটবলপ্রেমীদের মুখে নতুন করে ফিরিয়ে এনেছে ‘অলিম্পিক গোল’ শব্দটিও।
ফুটবলে কর্নার কিক থেকে কোনো খেলোয়াড়ের স্পর্শ ছাড়াই বল সরাসরি জালে জড়িয়ে গেলে সেটিকে ‘অলিম্পিক গোল’ বলা হয়। অর্থাৎ কর্নার থেকে নেওয়া বল যদি বাঁক খেয়ে সরাসরি গোলপোস্টে ঢুকে যায় এবং মাঝপথে কেউ স্পর্শ না করে, তখন সেটি অলিম্পিক গোল হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
নেপালের বিপক্ষে ঋতুপর্ণার গোলটিও ছিল ঠিক এমনই। কর্নার থেকে নেওয়া তার নিখুঁত শট সরাসরি জালে আশ্রয় নেয়। মুহূর্তেই বাংলাদেশের ডাগআউট, গ্যালারি আর ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস।
‘অলিম্পিক গোল’ নামটির ইতিহাসও বেশ রোমাঞ্চকর। ১৯২৪ সালে প্যারিস অলিম্পিকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল উরুগুয়ে। পরে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের এক ম্যাচে আর্জেন্টিনার সেসারেও অনজারি কর্নার থেকে সরাসরি গোল করেন। অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে করা সেই গোল থেকেই ‘গোল অলিম্পিকো’ বা ‘অলিম্পিক গোল’ নামটির প্রচলন শুরু হয়।
ফুটবলে এমন গোল খুবই বিরল। কারণ কর্নার থেকে সরাসরি গোল করতে লাগে নিখুঁত কার্ভ, সঠিক গতি এবং অনুকূল পরিস্থিতি। তাই ঋতুপর্ণার এই গোল শুধু একটি ম্যাচের গোল নয়, বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্যও এক স্মরণীয় মুহূর্তও বটে।
নেপালের বিপক্ষে চাপের ম্যাচে এমন গোল করে ঋতুপর্ণা আবারও দেখালেন, বড় মঞ্চে বড় মুহূর্ত তৈরি করতে জানেন বাংলাদেশের মেয়েরা।