দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের মঞ্চ প্রস্তুত। ভারতের গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আজ শুধু ট্রফির লড়াই নয়, মর্যাদা, আধিপত্য, প্রতিশোধ এবং ইতিহাস গড়ারও লড়াই।
বাংলাদেশের সামনে বিরল কীর্তি গড়ার সুযোগ রয়েছে। ২০২২ ও ২০২৪ সালের পর এবারও শিরোপা জিতলে টানা তৃতীয়বার সাফের চ্যাম্পিয়ন হবেন লাল-সবুজের মেয়েরা। স্বাগতিক ভারতের লক্ষ্য হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করা।
ফাইনালে ওঠার পথে দুদলের যাত্রা ভিন্ন ছিল। গ্রুপপর্বে ভারত ৩-০ গোলে বাংলাদেশকে হারিয়ে অপরাজেয় পথচলায় বাধা দেয়। তবে সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়লেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন দেখিয়ে ২-১ গোলে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ভারত ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে।
ফাইনালের আগে বাংলাদেশ শিবিরে আত্মবিশ্বাস কমতি নেই। কোচ পিটার বাটলার জানিয়েছেন, ভারতের বিপক্ষে তার দল ভিন্ন চেহারায় মাঠে নামবে। গ্রুপপর্বের পরাজয়কে তিনি দেখছেন শিক্ষার অংশ হিসেবে। তার মতে, ভারতের আক্রমণাত্মক ফুটবল বাংলাদেশের জন্য পালটা আক্রমণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। দলের ফুটবলাররাও জানেন, ফাইনাল একেবারেই আলাদা ম্যাচ। গ্রুপপর্বের ফল এখানে কোনো মূল্য বহন করে না। সেমিফাইনালের জয় আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভারতও সতর্ক। কোচ ক্রিসপিন চেত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মতো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তার মতে, ফাইনালে দুদলের সম্ভাবনাই সমান। ভুটানের বিপক্ষে জয় পেলেও নিজের দলের পারফরম্যান্সে তিনি সন্তুষ্ট নন। ভারতের লক্ষ্য নিজের সেরাটা উপহার দেওয়া।
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন দুদলের তারকা ফুটবলাররা। বাংলাদেশের আক্রমণভাগে ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর থাকবে বাড়তি দায়িত্ব। ভারতের আশা থাকবে সানফিদা নংরুম, মালাভিকা এবং গোলরক্ষক পন্থোই চানুকে নিয়ে।
একদিকে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন, অন্যদিকে ভারতের হারানো সিংহাসন পুনরুদ্ধারের আকাঙ্ক্ষা। সব হিসাব মিলিয়ে গোয়ার ফাইনাল আজ রূপ নেবে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহারণে। অপেক্ষা ৭ টা থেকে শুরু হয়ে শেষ বাঁশি পর্যন্ত। কার হাতে উঠবে সাফের সোনালি ট্রফি, কার মাথায় শোভা পাবে দক্ষিণ এশিয়ার রানির মুকুট।