২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন সোমালিয়ার রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতান। প্রথম সোমালি হিসেবে বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পাওয়া তার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেতে হয়েছে তাকে।
মিয়ামি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর মার্কিন কর্তৃপক্ষ আরতানকে আটকে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) জানায়, অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের পর তাকে ‘ভেটিং সংক্রান্ত উদ্বেগের’ কারণে অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। যদিও তার কাছে বৈধ মার্কিন ভিসা ছিল।
ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন প্রশাসন সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নেন। তাদের বক্তব্য, বিশ্বকাপের কর্মকর্তা, খেলোয়াড় বা স্টাফ, সবার ক্ষেত্রেই একই ধরনের নিরাপত্তা যাচাই প্রযোজ্য এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বকাপের সব রেফারিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ শিবিরে থাকতে হয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না পারায় কানাডা বা মেক্সিকোতে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগও পাচ্ছেন না আরতান।
৩৪ বছর বয়সী আরতান সম্প্রতি আফ্রিকার সেরা পুরুষ রেফারি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। তিনি আফ্রিকার কাপ অব নেশন্স ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো বড় আসরেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বাদ পড়াকে সোমালিয়ার ক্রীড়াঙ্গন শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি হিসেবে দেখছে না, বরং ফুটবলে যোগ্যতার স্বীকৃতির ওপর আঘাত হিসেবে বিবেচনা করছে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এই ঘটনা আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ও অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।