চলতি বিশ্বকাপে কৌশল, প্রতিপক্ষ আর ম্যাচ পরিকল্পনার চেয়েও এখন জার্মান ফুটবলারদের বড় দুশ্চিন্তার নাম হয়ে উঠেছে মাঠের ঘাস। উত্তর ক্যারোলিনার উইনস্টন-সালেমে নিজেদের বেস ক্যাম্পে বিষাক্ত সাপের উপস্থিতি ধরা পড়ায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে জার্মান শিবিরে।
ঘাসের ভেতর আচমকা একটি ‘কপারহেড’ সাপ দেখা যাওয়ার পর থেকেই খেলোয়াড়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর ক্যারোলিনায় এই প্রজাতির বিষাক্ত সাপ তুলনামূলকভাবে নিয়মিতই দেখা যায়। তবে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির মাঝে এমন অভিজ্ঞতা মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়।
জার্মান অধিনায়ক জশুয়া কিমিচ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জার্মানিতে সাধারণত কৌশল, ইনজুরি আর পরবর্তী প্রতিপক্ষ নিয়েই খেলোয়াড়দের চিন্তা থাকে। কিন্তু এখানে এসে মাঠের ঘাসে কী লুকিয়ে আছে, সেটাও ভাবতে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সাপটি বিষাক্ত! এ কথা জানার পর থেকেই পুরো দলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিমিচ বলেন, ‘আমরা যখন শুনলাম এটি কামড়ালে হাসপাতালে যেতে হবে, তখন থেকেই সবার মাঝে ভয় কাজ করছে। কামড়ে হয়তো কেউ মারা যাবে না, তবে এটি নিশ্চিতভাবেই বিপজ্জনক।’
রসিকতা করে তিনি যোগ করেন, জার্মানির মতো দেশে এমন পরিস্থিতি খুব একটা দেখা যায় না, তাই স্থানীয়দের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেছে।
শুধু জার্মানিই নয়, একই ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করছে অন্য দলগুলোও। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই সান দিয়েগো ক্যাম্পের একটি অংশকে ‘সাপের এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল সুইজারল্যান্ড। অন্যদিকে নরওয়ের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ান থরস্টভেটও জানিয়েছেন, মাঠে নামার আগে এখন খেলোয়াড়দের বারবার মাটির দিকে তাকিয়ে চলতে হচ্ছে, যা প্রস্তুতির স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করছে।
তবে এই অস্বস্তি মাঠের পারফরম্যান্সে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি জার্মানির ওপর। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ গোলের বড় জয়ে দুর্দান্তভাবে বিশ্বকাপ শুরু করেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
আগামী ২১ জুন আইভরি কোস্টের বিপক্ষে মাঠে নামবে জার্মানি। তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এখন তাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঘাসের ভেতর লুকিয়ে থাকা এই অপ্রত্যাশিত আতঙ্ক।