বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেতে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই ম্যাচেই দেখা গেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পরিচিত আক্রমণাত্মক ফুটবল। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে কার্লো আনচেলোত্তির দল। এক গোল করার পাশাপাশি আরেক গোল তৈরিতেও বড় ভূমিকা রাখেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকা হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিল ছিল স্পষ্ট ফেভারিট। ম্যাচের শুরুতে কিছুটা সময় প্রতিপক্ষকে যাচাই করার পর ধীরে ধীরে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় সেলেসাওরা। বলের দখল ও ম্যাচের গতি—দুই ক্ষেত্রেই আধিপত্য দেখায় তারা। হাইতির খেলোয়াড়রা চেষ্টা করলেও ব্রাজিলের টেকনিক্যাল শ্রেষ্ঠত্বের সামনে খুব বেশি কিছু করতে পারেনি।
তবে শুধুই রক্ষণে গুটিয়ে না থেকে সুযোগ পেলেই আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছে হাইতি। ৬৩ মিনিটে কর্নার থেকে গোলের কাছাকাছিও পৌঁছে গিয়েছিল তারা। কিন্তু ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার দারুণ সেভ করে দলকে বিপদমুক্ত করেন।
জোনাল মার্কিংয়ের মাধ্যমে ব্রাজিলকে থামানোর পরিকল্পনা করেছিল হাইতি। কিন্তু খেলার নিয়ন্ত্রণ ব্রাজিলের হাতে চলে যেতেই তাদের রক্ষণভাগে ফাঁক দেখা দিতে শুরু করে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচ কার্যত নিজেদের করে নেয় আনচেলোত্তির দল।
২৩ মিনিটে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ভিনিসিয়াসের শট হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিদে ঠেকালেও ফিরতি বলে বিপত্তি ঘটে। ডিফেন্ডার হানেস ডেলক্রোইক্সের পায়ে লেগে বল গোলমুখে গেলে ম্যাথেউস কুনহার ছোঁয়ায় সেটি জালে জড়ায়।
৩৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কুনহা। মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে চমৎকার থ্রু পাস দেন ভিনিসিয়াস। সেই পাস ধরে এক ডিফেন্ডারকে সামলে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন কুনহা।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে নিজের নামও স্কোরশিটে তোলেন ভিনিসিয়াস। লুকাস পাকুয়েতার পাস পেয়ে দ্রুতগতিতে ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে ডান পায়ের শটে গোল করেন তিনি। এই গোলেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল এবং ম্যাচের ফল অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও কয়েকবার গোলের সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি ব্রাজিল। ৭৭ মিনিটে ডগলাস স্যান্টোসের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। যদিও পরে অফসাইডের সংকেত দেন সহকারী রেফারি। ম্যাচে একাধিকবার অফসাইডের ফাঁদে পড়েন রাফিনহা। ১২ মিনিটে তার একটি গোল বাতিল হয়। ৭৮ মিনিটে একই কারণে বাতিল হয় বদলি হিসেবে নামা এনদ্রিকের গোলও।
সহজ জয় পেলেও কিছু দুশ্চিন্তা রয়েছে ব্রাজিল শিবিরে। প্রথমার্ধেই পেশিতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন রাফিনহা। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন দলের ফরোয়ার্ডরা। আগামী ম্যাচগুলোর আগে এসব বিষয় নিয়ে কাজ করতে হবে কোচ কার্লো আনচেলোত্তিকে। ভিনিসিয়াসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিষয়টিও ব্রাজিলের জন্য ভাবনার কারণ হয়ে থাকতে পারে।