নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে মিশর। সেই জয়ের পর এখন শুধু স্বপ্ন দেখাই নয়, নকআউট পর্বের সমীকরণও অনেকটাই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনে ফেলেছেন মোহামেদ সালাহরা।
৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল সরাসরি শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয়। পাশাপাশি সেরা আটটি তৃতীয় দলও পায় নকআউটের টিকিট। ফলে গ্রুপের শেষ ম্যাচের আগে মিশরের সামনে সম্ভাবনার দরজা খোলা রয়েছে একাধিক পথেই।
ইরানের বিপক্ষে জিততে পারলে সবচেয়ে সহজ হবে হিসাব। সেক্ষেত্রে মিশরের পয়েন্ট দাঁড়াবে ৭, যা তাদের সরাসরি নকআউট নিশ্চিত করবে। তবে একই সময়ে বেলজিয়াম যদি নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে যায়, তাহলে গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে পারে ইউরোপের দলটি।
তবে শুধু জয়ই নয়, ড্র করলেও স্বস্তিতে থাকতে পারবে মিশর। ইরানের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি হলে তাদের সংগ্রহ হবে ৫। এই পয়েন্ট নিয়েও শেষ ৩২ নিশ্চিত। এরপর গ্রুপের শীর্ষে থাকবে নাকি দ্বিতীয় স্থানে শেষ করবে, সেটি নির্ভর করবে বেলজিয়াম ও নিউজিল্যান্ডের ম্যাচের ফলাফলের ওপর। যদি ওই ম্যাচটিও ড্র হয়, তাহলে গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রেখেই পরের রাউন্ডে যাবে মিশর।
এমনকি হারলেও আশা শেষ হয়ে যাচ্ছে না সালাহদের। ইরানের কাছে পরাজিত হলে মিশরের পয়েন্ট থাকবে ৪। তখনও নকআউটে যাওয়ার দুটি পথ খোলা থাকবে।
প্রথমত, নিউজিল্যান্ড যদি বেলজিয়ামকে হারায় কিংবা ড্র করে, তাহলে গোল ব্যবধানের হিসাবে মিশর গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, বেলজিয়াম জয় পেলে মিশর তৃতীয় স্থানে নেমে যেতে পারে। কিন্তু সেখানেও হতাশার কিছু নেই। কারণ ৪ পয়েন্ট এবং শূন্য কিংবা ইতিবাচক গোল ব্যবধান নিয়ে শেষ করলে সেরা আট তৃতীয় দলের তালিকায় জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা ৯৫ শতাংশেরও বেশি।
সব মিলিয়ে, গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগে মিশরের অবস্থান বেশ শক্তিশালী। নকআউটের টিকিট এখন আর শুধুই স্বপ্ন নয়, বরং বাস্তবতার খুব কাছাকাছি। ইরানের বিপক্ষে একটি ড্র কিংবা জয়ই যথেষ্ট হতে পারে সালাহদের বিশ্বকাপ যাত্রাকে আরও দীর্ঘ করার জন্য।