বিশ্বকাপে জমে উঠেছে গোল্ডেন বুটের লড়াই। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হলান্ড—তিনজনই যেন একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। একদিনের ব্যবধানে তিনজনই জোড়া গোল করে বিশ্বকাপকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছেন।
গত ম্যাচে কিছুটা এগিয়ে ছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু নতুন ম্যাচে সেই ব্যবধান আর থাকল না। মেসি জোড়া গোল করে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ান, একই সঙ্গে জবাব দেন কিলিয়ান এমবাপ্পেও। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আবার জোড়া গোল করেন আর্লিং হলান্ডও। ফলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনজনই এখন প্রায় পাশাপাশি।
মেসির ক্ষেত্রে সুযোগ ছিল আরও বড় কীর্তির। আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিকের পর এই ম্যাচেও শুরুতে পেনাল্টি পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। তবে ব্যর্থতার পরও থেমে থাকেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। পরে দুই গোল করে আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তিনি এখনও বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একজন।
মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড আগেই স্পর্শ করেছিলেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি সেই রেকর্ড শুধু ভাঙেননি, এককভাবে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। একই ম্যাচে তিনি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা (২৮), সবচেয়ে বেশি জয় (১৮) এবং সবচেয়ে বেশি মিনিট (২ হাজার ৪৮৯) খেলার রেকর্ডও নিজের করে নেন।
অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পেও নিজের ছন্দ ধরে রেখেছেন। বয়স, অভিজ্ঞতা আর চাপ; সবকিছুকে পাশে সরিয়ে রেখে তিনি আবারও দেখালেন বড় ম্যাচে নিজেকে মেলে ধরার ক্ষমতা। প্রথম ম্যাচে দুই গোলের পর ইরাকের বিপক্ষেও জোড়া গোল করে তিনি জানান দিয়েছেন, গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি পুরোপুরি আছেন।
এমবাপ্পের একটি গোল ছিল চোখ ধাঁধানো। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে করা সেই গোলটি ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টের সেরাগুলোর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। আরেকটি গোল এসেছে প্রতিপক্ষের ভুল কাজে লাগিয়ে।
আর্লিং হলান্ডের গল্পটা আবার ভিন্ন। এটি তার প্রথম বিশ্বকাপ হলেও শুরুটা করেছেন দারুণভাবে। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি আবারও জানান দিয়েছেন নিজের গোল করার সামর্থ্য। যদিও দলগত শক্তিতে নরওয়ে এখনো বড় দলগুলোর কাতারে নেই, তবুও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে আলো ছড়াচ্ছেন এই তরুণ স্ট্রাইকার।
বিশ্বকাপে মোট গোলের লড়াইয়ে মেসি ও এমবাপ্পের সঙ্গে তাল মেলানো এখনই কঠিন হলেও হলান্ডের উপস্থিতি গোল্ডেন বুটের লড়াইকে আরও রঙিন করে তুলেছে। দলগত সমীকরণে তিনি কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন নিয়মিতভাবেই।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের লড়াই এখন ত্রিমুখী এক উত্তেজনার নাম। যেখানে মেসি, এমবাপ্পে আর হলান্ড একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার গল্প লিখে চলেছেন।