বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে দেখা যায়নি নেইমার জুনিয়রকে। ১০ নম্বর জার্সিধারী এই সুপারস্টার অবশেষে ফিরলেন ব্রাজিলের হলুদ জার্সিতে। আর তার ফেরা ঘিরে উচ্ছ্বাস ছুঁয়ে গেছে সেলেসাও সমর্থকদেরও।
ভিনিসিয়ুসের ঝলমলে পারফরম্যান্সের দিনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল নেইমারের প্রত্যাবর্তন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে চোট পাওয়ার পর এটাই ছিল তার প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। দ্বিতীয়ার্ধের ৭৫তম মিনিটে ম্যাথিউস কুনহার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন এই তারকা।
নেইমার যখন মাঠে নামেন, তখন ব্রাজিলের বড় ব্যবধানের জয় ছিল কেবল সময়ের অপেক্ষা। ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকা সেলেসাওরা ম্যাচ প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছিল। তবে মাঠে নামার পর থেকেই আলাদা এক প্রাণ সঞ্চার হয় ব্রাজিলের খেলায়।
ম্যাচ শেষে ক্যামেরা যেন খুঁজে নেয় নেইমারকে। ধরা পড়ে তার আবেগঘন মুহূর্ত। পরে তিনি বলেন, ‘খেলার পর আমি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। তারপর আমি আমার পরিবারের সঙ্গে দেখা করলাম, সবাই কাঁদছিল, লাফালাফি করছিল, হাসছিল। এটা ছিল মিশ্র অনুভূতি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সত্যিকারের কৃতজ্ঞতার মুহূর্ত। আমার লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপে খেলা, জাতীয় দলে ফেরা, এই জার্সি পরা। আমি এখানে থাকতে ভালোবাসি, ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সি পরতে ভালোবাসি।’
নেইমারের প্রত্যাবর্তন নিয়ে ম্যাচ শেষে প্রশংসা করেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তিও। তিনি বলেন, ‘সে খেলার সুযোগ পাওয়ার যোগ্য ছিল। চোট থেকে ফিরতে অসাধারণ পেশাদারিত্ব দেখিয়েছে। সে এই বিশ্বকাপে দলকে সাহায্য করতে পারবে। অল্প সময় খেললেও ভালো করেছে।’
৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের মানসিকতার প্রশংসা করেন ব্রাজিল কোচ আরও বলেন, ‘ব্রাজিলের জার্সি গায়ে খেলতে কোনো খেলোয়াড়ের আলাদা অনুপ্রেরণার প্রয়োজন হয় না। নেইমারের ক্ষেত্রেও তা-ই। বয়স ৩৪ হলেও তার মধ্যে এখনও কিশোরের মতোই আবেগ আছে।’