ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বাতিল হওয়া একটি গোল নিয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে কার্লো আনচেলত্তির দল ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষস্থানও ধরে রেখেছে দলটি। তবে বড় জয়ের পরও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম এস্তাদাও- এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফিফার কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সিবিএফ। নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তারা অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের একটি ঘটনাও উল্লেখ করেছে।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধের ২৪ মিনিটে বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটে। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার জ্যাক হেনড্রিকে চাপে ফেলে বলের দখল নেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এরপর গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। মাঠে উপস্থিত সমর্থকেরা গোল উদযাপন শুরু করলেও খেলা তখনও শেষ হয়নি।
ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে মেক্সিকান রেফারি সিজার রামোস সাইডলাইনের মনিটরে গিয়ে ঘটনাটি আবার দেখেন। রিপ্লে পর্যবেক্ষণের পর তিনি সিদ্ধান্ত দেন, বল দখলের মুহূর্তে ভিনিসিয়ুস প্রতিপক্ষের ওপর ফাউল করেছিলেন। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই গোলটি বাতিল করা হয়।
রেফারির এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ভিনিসিয়ুস। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘এটা লজ্জাজনক।’
ভিনিসিয়ুসের গোল বাতিল হওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয় সিবিএফ। অভিযোগপত্রে তারা আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে। সেই ম্যাচে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার অস্ট্রিয়ার জাভের শ্লাগারের কাছ থেকে বল কেড়ে নেন। এরপর সেই আক্রমণ থেকেই বল পৌঁছে যায় লিওনেল মেসির কাছে এবং আর্জেন্টাইন অধিনায়ক দলকে এগিয়ে নেওয়ার গোল করেন।
ব্রাজিলের দাবি, ম্যাক অ্যালিস্টারের ওই ট্যাকলও ফাউল হিসেবে বিবেচিত হতে পারত। কিন্তু ম্যাচের দায়িত্বে থাকা মিশরীয় রেফারি আমিন ওমর খেলায় কোনো বাধা দেননি এবং আক্রমণ চলতে দেন। পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা হয়েছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছে সিবিএফ।
শেষ ৩২ এর লড়াইয়ে আগামী সোমবার (২৯ জুন) জাপানের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। ‘এফ’ গ্রুপে সুইডেনের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে জাপান। সেই ম্যাচ দিয়েই শুরু হবে ব্রাজিলের বিশ্বকাপের নতুন অধ্যায়।