একসময় ফুটবল বিশ্ব ছিল দুই ভাগে বিভক্ত, এক পাশে লিওনেল মেসি, অন্য পাশে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। প্রায় দেড় দশক ধরে সেই ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফুটবলকে দিয়েছে অসংখ্য স্মরণীয় রাত, অসংখ্য বিতর্ক আর অগণিত রেকর্ড। বয়সের ভারে ধার কমলেও এখনও তারা আছেন প্রবলভাবেই, তবে বুটজোড়া তুলে রাখার সময় ঘনিয়ে আসছে এই দুই কিংবদন্তির।
এখন প্রশ্ন একটাই, তাদের সেই ফেলে যাওয়া শূন্যস্থান কি পূরণ করতে চলেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হলান্ড?
বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই প্রশ্নেরই প্রথম বড় উত্তর খোঁজার পালা এসেছে এবার। শনিবার (২৭ জুন) রাত ১টায় বোস্টনের ফক্সবরোতে গ্রুপ ‘আই’-এর শীর্ষস্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও নরওয়ে। আর ম্যাচের আলোটা সবচেয়ে বেশি থাকবে এমবাপ্পে ও হলান্ডের ওপরই।
এবারের বিশ্বকাপে দুজনেরই গোল চারটি করে। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে পাঁচ গোল করা লিওনেল মেসির ঠিক পেছনেই রয়েছেন তারা। তাই এই ম্যাচ শুধু গ্রুপসেরার লড়াই নয়, ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব জানান দেওয়ারও এক মঞ্চ।
ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, আগামী এক দশক বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে এমবাপ্পে-হলান্ডের। একজন গতি, ড্রিবলিং ও সৃজনশীলতার প্রতীক; অন্যজন শক্তি, নিখুঁত ফিনিশিং ও গোল করার অদম্য ক্ষুধার প্রতিচ্ছবি। তাদের ভিন্নধর্মী ফুটবলই এই দ্বৈরথকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
মেসি-রোনালদোর মতো এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আদৌ কিংবদন্তির পর্যায়ে পৌঁছাবে কি না, তার উত্তর অবশ্য সময়ই দেবে। তবে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে মুখোমুখি লড়াই সেই সম্ভাবনাকে আরও উসকে দিচ্ছে।
ফ্রান্সের জন্য সমীকরণ সহজ। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ড্র করলেই তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে। সেনেগাল ও ইরাককে অনায়াসে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর তারা। অন্যদিকে নরওয়ে জানে, ইতিহাস লিখতে হলে ফ্রান্সকে হারানোর বিকল্প নেই।
তবে ম্যাচের আগে ফ্রান্স শিবিরে নেমেছে শোকের ছায়া। মায়ের মৃত্যুর কারণে সাময়িকভাবে দলের ক্যাম্প ছেড়েছেন কোচ দিদিয়ের দেশম। তার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন সহকারী কোচ গি স্তেফান।
একই দিনে গ্রুপ ‘এইচ’-এ স্পেনের সামনে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ। উরুগুয়ের বিপক্ষে ড্র করলেই শীর্ষস্থান নিশ্চিত হবে তাদের। অন্যদিকে কেপ ভার্দে সৌদি আরবকে হারিয়ে রূপকথার যাত্রা আরও দীর্ঘ করতে চায়।
গ্রুপ ‘জি’-তে মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কও থাকবে সমান তালে। সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইরান-মিশর ম্যাচকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ‘প্রাইড ম্যাচ’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল, যদিও তখন অংশগ্রহণকারী দলগুলোর পরিচয় নির্ধারিত হয়নি। পরে সূচি চূড়ান্ত হলে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ইরান ও মিশর, দুই দেশের কর্মকর্তারাই। ফলে মাঠের ৯০ মিনিটের লড়াইয়ের আগেই এই ম্যাচ ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বিতর্কের আবহ।
একই গ্রুপে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করতে চায় কেভিন ডি ব্রুইন ও রোমেলু লুকাকুর বেলজিয়াম।
তবে সব আলো এক জায়গাতেই, এমবাপ্পে না হলান্ড? বিশ্ব ফুটবলের আগামী দিনের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত লড়াইয়ের প্রথম বিশ্বকাপ অধ্যায়ে কে লিখবেন নিজের নাম, সেটিই দেখার অপেক্ষা।