বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে নাটকীয় হারের পর ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তার অভিযোগ, ম্যাচ পরিচালনায় অবিচার হয়েছে, হয়তো বিশ্বকাপে মেসিকে টিকিয়ে রাখারই চেষ্টা করা হয়েছে। খেলাভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএনের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যাচে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে জয় তুলে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শেষ দিকে লিওনেল মেসি একটি গোলে সহায়তা করার পাশাপাশি একটি গোলও করেন।
তবে ম্যাচে ভিএআরের মাধ্যমে মিশরের একটি গোল বাতিল করা এবং পরবর্তী সময়ে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের সম্ভাব্য ফাউলের ঘটনা ভিএআরে পর্যালোচনা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ মিশর শিবির।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান বলেন, ‘আমরা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চেয়ে সব দিক থেকেই ভালো খেলেছি। কিন্তু মাঠের ভেতরের কিছু সিদ্ধান্ত এবং মাঠের বাইরের কিছু বিষয় ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। হয়তো তারা চেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক। হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি প্রতিযোগিতায় থাকুক।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফুটবলে কখনো কখনো এমন কিছু বাহ্যিক বিষয় থাকে, যা কৌশলগত বা টেকনিক্যাল দিকেরও বাইরে চলে যায়। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি সব পর্যায়ে সমর্থন পেয়েছে।’
ম্যাচটি পরিচালনা করেন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে। হাসান জানান, ম্যাচের আগেই এই রেফারিকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে তারা আপত্তি জানিয়েছিলেন।
তার ভাষায়, ‘আর্জেন্টিনার পক্ষে যেন চাপ ছিল। ফরাসি রেফারিকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও আমাদের আপত্তি ছিল। কারণ, আর্জেন্টিনা ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভুগতে হয়েছে আমাদেরই।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা কোনো সম্মান বা ফেয়ার প্লে দেখিনি। মোহাম্মদ সালাহর ওপর ফাউলের ঘটনায় সম্ভাব্য পেনাল্টি দেওয়া হয়নি, ভিএআরেও দেখা হয়নি। আবার আমাদের দ্বিতীয় গোলও রহস্যজনকভাবে বাতিল করা হয়েছে।’
হাসান বলেন, আমি এটিকে শুধু দুর্ভাগ্যই বলতে চাই। কিন্তু আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। এটা স্পষ্ট অবিচার।
এদিকে, ম্যাচ শেষে রেফারি লেতেক্সিয়ের সঙ্গে কোচ হাসানের বাগবিতণ্ডাও হয়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বলেছি, এটা অন্যায়। আমি আরও বলেছি, হয়তো তিনি কিছু লুকাতে চাইছেন। কেউ কিছু লুকানোর চেষ্টা করলে শেষ পর্যন্ত তা লুকিয়ে রাখতে পারে না।’
মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকোও রেফারিং নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ম্যাচটি আমাদের হাতেই ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে সব বদলে গেল। মাঠে অদ্ভুত কিছু ঘটনা ঘটেছে। আজ রেফারির কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, সবাই তা দেখেছে।’
দ্বিতীয় গোল বাতিলের বিষয়ে জিকো বলেন, ‘আমি এখনো বুঝতে পারছি না কেন গোলটি বাতিল করা হলো। এর কোনো কারণ আমি দেখি না।’ ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পরও জয় নিশ্চিত ধরে নেননি বলে জানান তিনি।
জিকো বলেন, ‘না, আমরা কখনোই ভাবিনি ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে। আমরা জানতাম আমরা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং শিরোপার অন্যতম দাবিদার দলের বিপক্ষে খেলছি। তবে তারা যদি নিজেদের যোগ্যতায় জিতত, তাহলে বিষয়টি ভিন্ন হতো।’
গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবেইর বলেন, ‘শেষ ১০ মিনিটে আমাদের সবারই কিছু ভুল হয়েছে। তবে আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষেই খেলছিলাম।’ রিজার্ভ গোলরক্ষক মোহাম্মদ আলা বলেন, ‘রেফারিং সবার সামনেই স্পষ্ট ছিল। আমাদের একটি গোল বাতিল করা হয়েছে। সম্ভাব্য একটি পেনাল্টির বদলে উল্টো সেই আক্রমণ থেকেই তারা গোল করেছে। আমাদের সব আপত্তিই ছিল রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে, অন্য কোনো বিষয়ে নয়।’
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ ড্রেসিংরুমে গিয়ে সতীর্থদের উদ্দেশে বলেন, ‘যা হয়েছে, আল্লাহর ইচ্ছাতেই হয়েছে। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে আরও ভালো করার চেষ্টা করতে হবে।’