রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে জয়ের পর মাঠে একটি ব্যানার প্রদর্শন করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। ‘লাস মালভিয়ানস সন আর্জেন্টিনাস’ লেখা সেই ব্যানারটি ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের ঐতিহাসিক বিরোধকে আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে শেষ পাঁচ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। এরপর এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে লিওনেল মেসির দল।
ম্যাচ শেষে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও জিওভানি লো সেলসোকে ওই ব্যানার হাতে গ্যালারির দিকে নাড়াতে দেখা যায়। ব্যানারটি কোথা থেকে এসেছে, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।
‘মালভিনাস’ আর্জেন্টিনার ব্যবহৃত নাম, আর ব্রিটেনে এটি ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ’ নামে পরিচিত। এই ভূখণ্ড নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ১৯৮২ সালে এই বিরোধকে কেন্দ্র করে ৭৪ দিনব্যাপী যুদ্ধে ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন।
এদিকে বিশ্বকাপে রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে বিতর্ক এবারই প্রথম নয়। এর আগে ইরানের ম্যাচেও রাজনৈতিক প্রতীক প্রদর্শনের ঘটনা আলোচনায় এসেছিল।
আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল বলেন, ‘আমরা বুঝি, এটি এমন একটি ফুটবল ম্যাচ যা ক্রীড়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়; এটি ডিয়াগো যা করেছিলেন, সেই স্মৃতিগুলো ফিরিয়ে আনে। আমরা আমাদের মালভিনাসের বীরদের নিয়ে গান গাই, মূলত তাদের স্মরণ করার জন্য। কিন্তু আমাদের এটাও বুঝতে হবে যে এটি একটি ফুটবল ম্যাচ, আর মালভিনাসের বিষয়টি অন্যত্র আলোচনা হওয়া উচিত।’
ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী, রাজনৈতিক বা আপত্তিকর বার্তাসংবলিত ব্যানার, পতাকা ও অন্যান্য সামগ্রী নিষিদ্ধ। তবে এ বিষয়ে ফিফার পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফাইনালকে সামনে রেখে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার নিরাপত্তামন্ত্রী আলেহান্দ্রা মন্তেওলিভা জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ উদযাপন নিশ্চিত করতে ১ হাজার ৬০০ কর্মকর্তা মোতায়েন থাকবে।