বিশ্বকাপ শিরোপার দ্বারপ্রান্তে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। তবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল শুধুই যে মাঠের লড়াই, তা কিন্তু নয়। টুর্নামেন্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আর্থিক পুরস্কারও জড়িয়ে রয়েছে দলগুলোকে কেন্দ্র করে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের জন্য রেকর্ড ৮৭১ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ১০ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা) আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ফিফা।
এই অর্থের মধ্যে রয়েছে পারফরম্যান্সভিত্তিক পুরস্কার, প্রস্তুতি বাবদ অর্থ এবং অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য অতিরিক্ত সহায়তা।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফিফা ৭২৭ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৮ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা) প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল। এর মধ্যে পারফরম্যান্সভিত্তিক পুরস্কারের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬৫৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৮ হাজার ৬৫ কোটি টাকা)। অর্থাৎ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এবার পুরস্কারের অর্থ বেড়েছে ৫০ শতাংশ।
এর মধ্যে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬১৬ কোটি টাকা)। আর রানারআপ দলকে দেওয়া হবে ৩৩ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪০৬ কোটি টাকা)। অর্থাৎ রোববারের ফাইনালে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান স্পেন ও আর্জেন্টিনার ফেডারেশনের জন্য ১৭ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২০৯ কোটি টাকা)।
অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য রেকর্ড অর্থ
টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বিশ্বকাপ শুরুর কিছুদিন আগে আর্থিক বণ্টনের পরিমাণ আরও বাড়িয়েছে ফিফা।
প্রতিটি দলের প্রস্তুতি বাবদ অর্থ ১.৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা) থেকে বাড়িয়ে ২.৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা) করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনকারী প্রতিটি দলকে নিশ্চিত অর্থ ৯ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১১১ কোটি টাকা) থেকে বাড়িয়ে ১০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২৩ কোটি টাকা) করা হয়েছে।
এ ছাড়া দলগুলোর অতিরিক্ত খরচের জন্য ১৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি (প্রায় ১৯৭ কোটি টাকা) বরাদ্দ দিয়েছে ফিফা। এর মধ্যে প্রতিনিধি দলের খরচ এবং বাড়তি টিকিট বরাদ্দের মতো বিষয়ও রয়েছে।
সব মিলিয়ে ৪৮টি অংশগ্রহণকারী জাতীয় অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে বিতরণ করা হবে ৮৭১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১০ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা)।
তবে ফাইনালের এই অর্থ সরাসরি খেলোয়াড়দের হাতে যাবে না। অর্থ পাবে রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন ও আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। খেলোয়াড়রা শেষ পর্যন্ত কতটা পাবেন, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশন ও দলের মধ্যে করা আলাদা বোনাস চুক্তির ওপর।
ফাইনাল জিতলে খেলোয়াড়রা কত টাকা বোনাস পাবেন, এ বিষয়ে স্পেন বা আর্জেন্টিনা কোনো ফেডারেশনই এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্বকাপের প্রতিটি ধাপেই অর্থ
ফিফার মূল পারফরম্যান্সভিত্তিক অর্থ বণ্টন কাঠামো অনুযায়ী, ৩৩ থেকে ৪৮তম স্থানে থাকা দলগুলোর জন্য বরাদ্দ ছিল ৯ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১১১ কোটি টাকা)। পরে যোগ্যতা অর্জনকারী প্রতিটি দলের নিশ্চিত অর্থ বাড়িয়ে ১০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২৩ কোটি টাকা) করা হয়।
শেষ ৩২-এ উঠলে একটি দল পাবে ১১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা)। শেষ ১৬-তে উঠলে ১৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৮৫ কোটি টাকা) এবং কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলে ১৯ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৩৪ কোটি টাকা)।
চতুর্থ হওয়া দল পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৩২ কোটি টাকা)। তৃতীয় দল পাবে ২৯ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৫৭ কোটি টাকা)।
অর্থাৎ ফাইনালে উঠেই স্পেন ও আর্জেন্টিনা আগের ধাপগুলোতে বাদ পড়া দলগুলোর তুলনায় অনেক বড় আর্থিক পুরস্কার নিশ্চিত করেছে।
লাভবান হবে ক্লাবও
বিশ্বকাপের আর্থিক প্রভাব জাতীয় ফেডারেশনেই সীমাবদ্ধ নয়। জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড়কে ছাড় দেওয়ার বিনিময়ে ক্লাবগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয় ফিফার ‘ক্লাব বেনিফিটস প্রোগ্রাম’।
বিশ্বকাপে একজন খেলোয়াড় কতদিন ছিলেন, তার ওপরও এই অর্থের হিসাব নির্ভর করে। সংশ্লিষ্ট সময়ে খেলোয়াড়কে দলে রাখা ক্লাবগুলো এই অর্থ পায়।
২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য এই কর্মসূচিতে রেকর্ড ৩৫৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা) বরাদ্দ করেছে ফিফা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে এই অর্থ ছিল প্রায় ২০৯ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা)।
ফলে রোববারের ফাইনালে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বড় বড় ক্লাবের খেলোয়াড়রা মাঠে নামায় আর্থিক সুবিধার অংশ পৌঁছাবে স্পেন, আর্জেন্টিনাসহ আরও কয়েকটি দেশের ক্লাবগুলোর কাছেও।
শিরোপার বাণিজ্যিক মূল্য আরও বড়
ফিফার সরাসরি পুরস্কারের অর্থ বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাব্য আর্থিক লাভের কেবল একটি অংশ। শিরোপা জিতলে একটি দলের স্পনসরশিপ, পণ্য বিক্রি ও বাণিজ্যিক জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
আর্জেন্টিনা জিতলে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে। লিওনেল মেসিকে ঘিরে থাকা দলটির বাণিজ্যিক আকর্ষণও আরও বাড়বে।
অন্যদিকে ২০১০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতলে স্পেনের নতুন প্রজন্ম—লামিন ইয়ামালদের বাণিজ্যিক মূল্য আরও বাড়বে। লাভবান হবে স্প্যানিশ ফেডারেশন ও তাদের স্পনসররাও।
রোববার ইস্ট রাদারফোর্ডের নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
সূত্র: বার্তা সংস্থা আনাদোলু