বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে পুরো ম্যাচজুড়ে চাপে রেখে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতে নিল স্পেন। নিউইয়র্ক স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো লা রোজা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় স্পেন। পঞ্চম মিনিটেই লামিন ইয়ামাল স্পেনকে এগিয়ে দেওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিলেন। পরে সপ্তম মিনিটে উল্টো প্রান্তে লিওনেল মেসির নিশ্চিত গোলের সুযোগ অসাধারণ দক্ষতায় নষ্ট করে দেন স্পেন গোলরক্ষক উনাই সিমন।
প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনাকে কার্যত বোতলবন্দি করে রাখে স্পেন। বলের দখল ছিল ৬৫ শতাংশ, যেখানে আর্জেন্টিনার মাত্র ৩৫ শতাংশ। বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা পুরো প্রথমার্ধে লক্ষ্যে কোনো শটই নিতে পারেনি। অন্যদিকে রদ্রির নেতৃত্বে মাঝমাঠ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় স্পেন। এমিলিয়ানো মার্টিনেজের একাধিক দুর্দান্ত সেভ না থাকলে বিরতির আগেই এগিয়ে যেতে পারত লা রোজা।
বিরতির পর আর্জেন্টিনা কয়েকটি পরিবর্তন এনে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে পারেনি। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধেও ইয়ামাল, দানি ওলমো, পেদ্রি ও ফেরান তোরেসদের আক্রমণে ব্যস্ত সময় কাটাতে হয় আর্জেন্টাইন রক্ষণকে।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের করা একটি গোল ফাউলের কারণে বাতিল হলেও তাতে দমে যায়নি স্পেন।
শেষ পর্যন্ত ১০৬ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। পেদ্রো পোরোর আক্রমণ থেকে নিকো উইলিয়ামস বল বাড়িয়ে দেন ফেরান তোরেসের কাছে। স্পেনের এই ফরোয়ার্ড কোনো ভুল না করে বল জড়িয়ে দেন আর্জেন্টিনার জালে। সেই গোলই গড়ে দেয় ম্যাচের ভাগ্য।
গোল হজমের পর শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও স্পেনের শক্ত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি আর্জেন্টিনা। শেষ বাঁশি বাজতেই উৎসবে মাতে স্প্যানিশরা।
এই জয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ট্রফি জিতল স্পেন। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেল লিওনেল মেসিদের।