বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর মেটলাইফ স্টেডিয়ামের পরিবেশ মুহূর্তেই বদলে যায়। স্পেনের শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সঙ্গে স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের বাকবিতণ্ডা থেকে শুরু হয় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি।
তবে সেই বিশৃঙ্খলার মাঝেই ফুটবলপ্রেমীদের নজর কাড়ে এক ভিন্ন দৃশ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পারেদেস যখন গাভির সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন, তখন স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল শান্তভাবে প্রার্থনায় মগ্ন।
মাত্র ১৮ বছর বয়সী ইয়ামালের এই স্থিরতা ও সংযম প্রশংসা পেয়েছে বিশ্বজুড়ে। একই ফাইনালে যেন দেখা গেল দুই প্রজন্মের দুই ভিন্ন চিত্র, একদিকে মেসির বিশ্বকাপ যাত্রার আবেগঘন সমাপ্তি, অন্যদিকে ইয়ামালের মতো নতুন তারকার আগমনের বার্তা।
মাঠের লড়াইয়েও শেষ পর্যন্ত স্পেনই ছিল এগিয়ে। পুরো ১২০ মিনিট আধিপত্য ধরে রাখার পর অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তরেসের গোলে জয় নিশ্চিত করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। তার এই গোল ফিরিয়ে আনে ২০১০ বিশ্বকাপে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক গোলের স্মৃতি।
অন্যদিকে, শেষ পর্যন্ত লড়াই করলেও এনজো ফার্নান্দেসের লাল কার্ড আর্জেন্টিনার জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে। ১০ জনের দল নিয়ে অতিরিক্ত সময়ের চাপ সামলাতে পারেনি বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শিরোপার পথে স্পেন একে একে পর্তুগাল, বেলজিয়াম, ফ্রান্স এবং শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে। শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে এগিয়ে ছিল তারা।
প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা স্পেনের চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও দ্বিতীয়ার্ধে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রদ্রি-নিয়ন্ত্রিত মাঝমাঠ ও দ্রুত আক্রমণের সামনে মেসিদের অনেকটাই নিষ্প্রভ দেখা যায়।
পরিসংখ্যানেও ছিল স্পেনের আধিপত্য। নির্ধারিত সময়ে স্পেন ১৩টি শট নিলেও আর্জেন্টিনা নিতে পেরেছিল মাত্র ১টি। তবে গোলবারের নিচে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দুর্দান্ত কিছু সেভ আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিল।
শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিরোধ ভাঙেন ফেরান তোরেস। সঠিক সময়ে তার একমাত্র গোলই স্পেনকে এনে দেয় দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এবং ফুটবল ইতিহাসে জায়গা করে দেয় আরেকটি স্মরণীয় রাত।