বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের একদিন পর অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন লিওনেল মেসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় হারের কষ্ট, সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, সমর্থকদের ভালোবাসা এবং নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
স্প্যানিশ ভাষায় নিজের ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত বার্তায় মেসি লিখেছেন, ‘কষ্টটা অনেক বড়, আর এই ক্ষত সারতে সময় লাগবে। তবে আমি ভালো স্মৃতিগুলোও মনে রাখতে চাই... আমরা যে ম্যাচগুলো খেলেছি, নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি, সেগুলো আমাদের স্মৃতিতে চিরদিন থেকে যাবে। পুরো একটা দেশের সমর্থন নিয়ে, দলের কঠোর পরিশ্রম আর প্রচেষ্টায়, আমরা আবারও বিশ্বসেরা দলগুলোর একটি হতে পেরেছি। আমরা কী অর্জন করেছি, তা আজ পুরোপুরি উপলব্ধি করা কঠিন, তবে এই দল টানা দুবার বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছেছে। প্রতিটি শুভেচ্ছা আর প্রতিটি বার্তার জন্য আমি হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা আবারও একটা দেশ হিসেবে একসঙ্গে জড়ো হয়েছি, আর্জেন্টাইন হওয়ার গর্বে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য আমি স্পেনকেও অভিনন্দন জানাতে চাই।’
মেসির এই বার্তা আবেগে ভরপুর হলেও, ফাইনাল শেষে মাঠের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। স্পেনের ১-০ গোলের জয়ের পর দুই দলের কয়েকজন ফুটবলারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে সেই ঘটনায় মেসি জড়িত ছিলেন না। এ ঘটনার তদন্ত করবে ফিফা বলে জানা গেছে।
এই ম্যাচটিই সম্ভবত বিশ্বকাপে মেসির শেষ উপস্থিতি। ২০৩০ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশগুলোর একটি আর্জেন্টিনা হলেও, তখন মেসির বয়স হবে ৪৩ বছর। তাই আরেকটি বিশ্বকাপে তাকে দেখা যাবে, এমন সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
ফাইনাল শেষে রানার্সআপ পদক গ্রহণের সময় কান্না চেপে মাঠ ছাড়তে দেখা যায় মেসিকে। সেই দৃশ্যই যেন ইঙ্গিত দিচ্ছিল, বিশ্বকাপের সঙ্গে তার দীর্ঘ ও গৌরবময় পথচলা হয়তো এখানেই শেষ।
২০২৬ বিশ্বকাপজুড়ে বয়সকে হার মানিয়ে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছেন মেসি। একের পর এক রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও ছিলেন তিনি। তার নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্স না থাকলে আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠাই কঠিন হয়ে যেত। তবে সব প্রচেষ্টার পরও টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। আর সেই অপূর্ণতার বেদনাই যেন ফুটে উঠেছে মেসির আবেগঘন বিদায়ী বার্তায়।