জাতীয় দলের নতুন কোচ হিসেবে পেপ গার্দিওলাকে দায়িত্ব দিতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। এ লক্ষ্যেই বার্সেলোনায় গিয়ে স্প্যানিশ কোচের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইতালির কিংবদন্তি পাওলো মালদিনি ও লিওনার্দো। এই বৈঠকের পর থেকেই গার্দিওলার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্কাই স্পোর্ট ইতালিয়ার তথ্য অনুযায়ী, এটি শুধু আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না। পুরো সপ্তাহান্তজুড়েই আলোচনা চলতে পারে বলে জানা গেছে। ইতালিয়ান ফুটবলকে নতুন করে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কেন্দ্রেই রয়েছেন গার্দিওলা।
তবে ইতালির আগ্রহের বিপরীতে কোচিংয়ে ফেরার বিষয়ে এখনও অনাগ্রহী গার্দিওলা। ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়ার পর তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সেটি উপভোগ করছেন। গার্দিওলা বলেন, ‘মানসিকভাবে ফুটবলকে একদমই মিস করছি না। সাঁইত্রিশ বছর বয়সে কোচিং শুরু করেছিলাম, আমার পুরো জীবনটাই ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এখন আমি জীবনটাকে নতুন করে আবিষ্কার করতে চাই, ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্কহীন কাজ করে খুশি থাকতে চাই।’
পঞ্চান্ন বছর বয়সী এই কোচ আরও বলেন, ‘আমার জীবনটা আসলে কেমন হবে, সেটাই বোঝার চেষ্টা করছি। নিজের প্রতি আরও ভালোভাবে যত্ন নিতে চাই বলেই থামার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সন্তানদের সঙ্গে, আর পঁচানব্বই বছর বয়সী বাবার সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে চাই, যিনি এখনও আমাদের সঙ্গেই আছেন। আমি আর তরুণ নই, জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে যায়। জীবনের এই নতুন অধ্যায়ের সঙ্গে এখনও মানিয়ে নিচ্ছি, তবে সবকিছু বেশ ভালোভাবেই চলছে।’
যদিও গার্দিওলাই ইতালির প্রথম পছন্দ, তবু বিকল্প হিসেবেও কয়েকটি নাম বিবেচনায় রাখা হয়েছে। রবার্তো মানচিনি, আন্দ্রেয়া পির্লো এবং আন্তোনিও কন্তের নামও আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ কোচ হিসেবেও গার্দিওলার নাম উঠে এসেছে। সাবেক অধিনায়ক ওয়েইন রুনি পর্যন্ত বলেছেন, ‘যদি গার্দিওলাকে আনা সম্ভব হয়, তাহলে তাকে এখনই নিয়ে আসা হোক।’
সব মিলিয়ে গার্দিওলার পরবর্তী গন্তব্য কী হবে, সেটিই এখন ফুটবল বিশ্বের বড় প্রশ্ন। তবে আপাতত স্প্যানিশ এই কোচ নিজের বিরতিটাই উপভোগ করতে চান।