২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হতেই ফুটবল প্রশাসনে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। মাঠের লড়াইয়ের রেশ এবার ছড়িয়ে পড়েছে ফিফা ও উয়েফার সম্পর্কেও। বিশ্বকাপ ফাইনাল বয়কট করে সেই দ্বন্দ্বকে আরও স্পষ্ট করেছেন উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিন।
দ্য টাইমস ও বিবিসি স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে উপস্থিত থাকলেও নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে যাননি সেফেরিন। তার এই অনুপস্থিতিকে ফিফার বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তোষের প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাবের অভিযোগ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, লাল কার্ড পাওয়ার পরও মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ ছিল। এই ঘটনাকে ফুটবলের স্বাধীনতা ও ন্যায্যতার পরিপন্থী বলে মনে করছে উয়েফা।
এছাড়া ২৭ মিনিটের হাফটাইম শো, বিশ্বকাপের টিকিটের উচ্চ মূল্য এবং ২০৩০ বিশ্বকাপে ৬৪ দল অংশগ্রহণের প্রস্তাব নিয়েও ফিফার সমালোচনা করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। উয়েফা ইতোমধ্যে জানিয়েছে, ইউরো ২০২৮-এ টিকিটের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
ফিফার কিছু নতুন নিয়ম নিয়েও আপত্তি তুলেছে উয়েফা। মুখে হাত দিয়ে কথা বললে লাল কার্ড, কিংবা ভিএআরের মাধ্যমে ভুল পরিচয়ে খেলোয়াড়কে মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার মতো নিয়ম ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় কার্যকর করা হবে না বলে অবস্থান জানিয়েছে তারা।
এদিকে, মার্কিন ভিসা না পাওয়ায় বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করতে না পারা সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানকে উয়েফা সুপার কাপে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ শেষ হলেও ফিফা ও উয়েফার টানাপোড়েন যে এখনই শেষ হচ্ছে না, সেটিই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।