মাঠে ১০৪ ম্যাচের উত্তেজনা, গ্যালারিতে দর্শকদের উন্মাদনা আর কোটি কোটি মানুষের নজর টেলিভিশনের পর্দায়। তবে সবকিছুর শেষে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ আলোচনায় এসেছে আরও একটি কারণে, রেকর্ড আয়। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয় হয়েছে ১৫২০ কোটি ডলার, যা আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
জানা গেছে, এই বিপুল আয়ের বড় একটি অংশ ফুটবলের মূল কাঠামোগত উন্নয়ন বা ‘পিরামিড’-এ বিনিয়োগ করবে ফিফা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোকে ফুটবল উন্নয়নের জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।
২০২৬ বিশ্বকাপের এই আয় কাতার বিশ্বকাপের প্রায় ৭৬০ কোটি ডলারের রাজস্বের প্রায় দ্বিগুণ। এর আগে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ৫৫০ কোটি ডলার, ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে ৪৭০ কোটি ডলার এবং ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ থেকে প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার।
এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল টুর্নামেন্টের পরিধি বৃদ্ধি। এবার রেকর্ড ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত হওয়ায় টিকিট বিক্রি, টেলিভিশন সম্প্রচারস্বত্ব, কমার্শিয়াল পার্টনারশিপ এবং স্পন্সরশিপ থেকেও আয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ফাইনাল ম্যাচের ওপরের গ্যালারির একটি সাধারণ আসনের জন্যও প্রায় ১১,৭০০ ডলার খরচ করতে পিছপা হননি অনেক দর্শক।
তবে পুরো টুর্নামেন্ট ছিল না বিতর্কমুক্ত। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই দিন আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। পরে বিশেষ সীমান্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানি দলকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। এছাড়া কয়েকটি বিতর্কিত আম্পায়ারিং সিদ্ধান্ত এবং স্পাইডারক্যামের ক্যাবলে বল লাগার ঘটনাও বিশ্বকাপজুড়ে আলোচনায় ছিল।