বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর আনন্দ মুহূর্তেই নতুন বিতর্কে রূপ নিয়েছে আর্জেন্টিনার জন্য। ম্যাচ শেষে ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় এবার যুক্তরাজ্যে ওয়ার্ক ভিসা হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন প্রিমিয়ার লিগে খেলা আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলার।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, টটেনহাম হটস্পারের ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এবং চেলসির এনজো ফার্নান্দেজকে ঘিরেই এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ‘এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের ওয়ার্ক ভিসা বাতিলের দাবির আইনগত দিক এখন বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করার পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা মাঠে ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের ঐতিহাসিক সংবেদনশীলতার কারণে এই ঘটনা যুক্তরাজ্যে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের সাবেক উপদেষ্টা নাইল গার্ডিনার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা যেসব আর্জেন্টাইন ফুটবলার এই প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন, তাদের ওয়ার্ক ভিসা বাতিল করা উচিত। তিনি বলেন, ‘এই ধরনের রাজনৈতিক উসকানির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।’
এদিকে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইলও ফুটবল মাঠে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের সমালোচনা করেছেন। তারা পুরো ঘটনা তদন্তের জন্য ফিফার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ফিফাও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি ম্যাচের অফিশিয়াল রিপোর্ট এবং ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। স্টেডিয়ামের ভেতরে রাজনৈতিক বা বিতর্কিত বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ হওয়ায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র এই ঘটনার কারণে প্রিমিয়ার লিগে খেলা আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের ওয়ার্ক ভিসা বাতিল করা সহজ হবে না। আইনগতভাবে বিষয়টি বেশ জটিল এবং এমন সিদ্ধান্তের সম্ভাবনাও তুলনামূলকভাবে কম।
তবুও ২০২৬-২৭ মৌসুম শুরুর আগে এই বিতর্ক প্রিমিয়ার লিগের কয়েকটি ক্লাব এবং সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের জন্য নতুন অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।