২০২৬ বিশ্বকাপের হতাশাজনক বিদায়ের পর জার্মান ফুটবলে শুরু হয়েছে নতুন অধ্যায়। রাউন্ড অব ৩২-এ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর সেই ব্যর্থতার দায় নিয়ে কোচের পদ ছাড়েন জুলিয়ান নাগেলসমান। এবার চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পুনরুজ্জীবনের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ ইয়ুর্গেন ক্লপের হাতে।
বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ও লিভারপুলের সাবেক এই কোচ জার্মান জাতীয় দলের সঙ্গে চার বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিয়েছেন। শুক্রবার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই নিজের লক্ষ্য পরিষ্কার করেছেন ক্লপ। তার চোখ এখন ২০২৮ ইউরো এবং ২০৩০ বিশ্বকাপের শিরোপায়।
জাতীয় দলের কোচ হিসেবে এটাই ক্লপের প্রথম অভিজ্ঞতা। তবে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসী। জার্মান ফুটবলের হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। ক্লপ বলেন, ‘এটা আমার জন্য অনেক বড় সম্মান। নিঃসন্দেহে এটা আমার জীবন ও ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন। জার্মানির ফুটবলে সুদিন ফেরাতে আমি নিজের সবটুকু উজাড় করে দেব।’
তবে দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি নিজের জন্য একটি কঠিন শর্তও জানিয়েছেন ক্লপ। সমর্থকদের আস্থা হারালে কোনো জটিলতা ছাড়াই সরে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন তিনি। ক্লপ বলেন, ‘যেদিন আপনারা আমাকে চান না, বলে দেবেন। আমি চলে যাব। আমাকে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্লিজ, আমার পরিবারকে শান্তিতে থাকতে দেবেন। যদি না দেন, অগ্রহণযোগ্য আচরণ করেন, সঙ্গে সঙ্গে আমি দায়িত্ব ছেড়ে দেব। যদি বলেন, আমি একটি আবর্জনা, এক মুহূর্তও থাকব না।’
গত এক যুগ ধরে জার্মান ফুটবল বড় সাফল্যের খোঁজে রয়েছে। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর এবার শেষ বত্রিশে থেমেছে তাদের যাত্রা। ইউরোতেও দীর্ঘদিন ধরে নেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।
এবার সেই ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙার দায়িত্ব ক্লপের কাঁধে। ক্লাব ফুটবলে ডর্টমুন্ড ও লিভারপুলকে সাফল্যের চূড়ায় নেওয়া এই কোচ জাতীয় দলেও নতুন জাগরণ তৈরি করতে পারেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।