বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হলে দেশে ফিরে আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। একই সঙ্গে তিনি দেশের মাটিতে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলতে এবং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব এসব কথা জানান। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করে রয়টার্স।
সাকিব বলেন, ‘সরকার যদি আমাকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে আমি দেশে ফিরতে, আদালতে দাঁড়াতে এবং যা যা প্রয়োজন সবকিছু করতে প্রস্তুত। আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি।’
আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে হত্যা ও দুর্নীতির অভিযোগসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে সাকিব বলেন, তিনি তার অবস্থান পরিবর্তনের কথা কখনো ভাবেননি। শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ক্যাপ্টেন যা বলবেন, আমরা সেটাই অনুসরণ করব। তিনি যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন, আমরা সেই নির্দেশই মানব।’
সাকিব জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইনজীবীর মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র, আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ পুলিশের কাছে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন। তবে কোনো জবাব পাননি। তিনি বর্তমান সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেও দেশে ফেরার পথ খুঁজতে চান বলে জানান।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব এ এ এম ছালেহ রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, সাকিব একজন পলাতক সরকারের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং বাংলাদেশের আইনে অন্য সবার মতো তাকেও আদালতে আত্মসমর্পণ করে বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে সাকিব বলেন, এখনও তিনি খেলা উপভোগ করছেন এবং নিজের পারফরম্যান্সেও সন্তুষ্ট। তবে বয়সের বিষয়টি মাথায় রেখে খুব বেশি সময় খেলতে পারবেন না বলেও মন্তব্য করেন।
সাকিব আরও জানান, ২০২৪ সালের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তার আশ্বাসে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানে উঠলেও মাঝপথে তাকে ফিরে যেতে বলা হয়। তিনি তখন দুবাই হয়ে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। পরে শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর তার দেশে ফেরার পরিকল্পনা ভেস্তে যায় বলে দাবি করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা সক্রিয় রয়েছে—একটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় এক বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগে এবং অন্যটি দুর্নীতির মামলায়।
হত্যা মামলার বিষয়ে সাকিব বলেন, যেদিন ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ, সেদিন তিনি কানাডার টরন্টোতে একটি ক্রিকেট ম্যাচ খেলছিলেন। তাই তিনি মামলাটিকে ‘হাস্যকর’ বলে উল্লেখ করেন।
সাকিব আরও জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে প্রায় দেড় বছর ধরে তার ব্যাংক হিসাব জব্দ রয়েছে। তবে কোন ব্যাংকে কত অর্থ রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে চাননি।
দীর্ঘ দুই বছর ধরে তিনি বাংলাদেশে থাকা নিজের বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি বলেও জানান সাকিব। তার দাবি, তার বাবা-মাকেও দেশ ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘সময়টা আমাদের সবার জন্যই কঠিন ছিল, তবে আমরা কোনোভাবে টিকে আছি।’