বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফায় যেন ঝড় থামছেই না। বিশ্বকাপের মালিকানা আংশিক বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা, নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা এবং নতুন অভিযোগ; সব মিলিয়ে চাপে রয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এবার সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর-মধ্য আমেরিকার তিন প্রভাবশালী ফুটবল সংস্থার যৌথ অবস্থান।
উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসি সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, ‘ফুটবল কোনো ব্যক্তির মালিকানাধীন নয়’। ইনফান্তিনোর নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও বিবৃতিতে তার নেতৃত্বের ধরন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি সেই সমষ্টির ঊর্ধ্বে নিজেকে স্থান দেন, যে সমষ্টি তাকে কর্তৃত্ব দিয়েছে, তাহলে তিনি নিজের দায়িত্ব পরিত্যাগ করেছেন।
বিশ্বকাপের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগ এনে আংশিক মালিকানা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর সেটি প্রত্যাহার করেছিল ফিফা। কিন্তু বিষয়টি সেখানেই থামেনি। এবার ওই পুরো প্রক্রিয়ার স্বাধীন তদন্তও দাবি করেছে তিন কনফেডারেশন। তাদের দাবি, ফিফার বাইরে থেকে তদন্ত করে খুঁজে বের করতে হবে কীভাবে এমন ‘গভীর বিচারবোধের ব্যর্থতা’ ঘটল।
এরই মধ্যে গত সপ্তাহে মরক্কোতে ফিফার জরুরি বৈঠকে ইনফান্তিনোর ক্ষমা চাওয়াও পরিস্থিতি শান্ত করতে পারেনি। উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশ এখনো ফিফার টুর্নামেন্ট বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি। নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস সরাসরি ইনফান্তিনোর পদত্যাগও দাবি করেছেন।
শুধু নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক নয়, ইনফান্তিনোর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নতুন অভিযোগ সামনে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ’ ১৭ বছর আগের একটি কথিত সম্পর্ক ও উয়েফায় এক কর্মীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। যদিও ফিফা এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব দুর্বল করার ‘সমন্বিত ও চলমান প্রচেষ্টা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিশ্ব ফুটবলের বিভাজন এখন স্পষ্ট। একদিকে উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফ কঠোর অবস্থানে; অন্যদিকে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কিছু দেশ এখনো তার পাশে। ২০২৭ সালের মার্চে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের জন্য আবারও ফিফা সভাপতি নির্বাচনে দাঁড়ানোর কথা ইনফান্তিনোর। কিন্তু তার আগেই যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন; শেষ পর্যন্ত ফিফার মসনদে টিকে থাকতে পারবেন তো ইনফান্তিনো?