দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের লিড নেওয়া সফরকারীরা শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের ৫৬ রানের লিডেই থামিয়েছে। ফলে ইহিহাস গড়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ৫৭ রান।
এর আগে, অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ব্যবধানে হারানোর সম্ভাবনা তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। ক্যামেরন গ্রিনের দুর্দান্ত লড়াইয়ে স্বাগতিকরা দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রান তুলেছে।
প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে ৪২৬ রান করেছিল বাংলাদেশ। এতে ২২৮ রানের বিশাল লিড পায় সফরকারীরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে একসময় ৭ উইকেটে ২৪৩ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপর গ্রিনের সেঞ্চুরিতে লিড নেওয়ার সুযোগ পায় তারা।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শেষদিকে অবশ্য নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় বাংলাদেশ। ২৭৮ রানে নবম উইকেট হারানোর পর আর বেশি দূর এগোতে পারেনি স্বাগতিকরা। মেহেদী হাসান মিরাজ নিজের পঞ্চম শিকার দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান।
অন্যদিকে, গ্রিনকে থামিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন হাসান মাহমুদ। অফস্টাম্প বরাবর এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন তিনি। ২০১ বলের ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কায় ১০৪ রান করেন গ্রিন। প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেট নেওয়া হাসান দ্বিতীয় ইনিংসে পান তিনটি উইকেট। সব মিলিয়ে ম্যাচে তার শিকার নয় উইকেট।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই অবশ্য বড় ধাক্কা খেতে পারত বাংলাদেশ। ৯৫ রানে গ্রিনের ক্যাচ ফেলেন তাসকিন আহমেদ। জীবন পেয়ে শতক তুলে নেন অজি ব্যাটার। তবে দলকে আরও বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেননি তিনি।
এর আগে, লাঞ্চের পর তৃতীয় ওভারেই অস্ট্রেলিয়ার অষ্টম উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদের বলে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন মিচেল স্টার্ক। ৩৪ বলে ১৮ রান করেন তিনি। গ্রিনের সঙ্গে তার জুটিতে আসে ৪৩ রান। তখন অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ২৫০, লিড ২২।
চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনেও বাংলাদেশের বোলাররা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একপ্রান্ত আগলে রাখেন গ্রিন। তার হাফ সেঞ্চুরির সুবাদে লাঞ্চের সময় ৭ উইকেটে ২৪৩ রান করে অস্ট্রেলিয়া, লিড দাঁড়ায় ১৫ রানে।
ওই সেশনে মিরাজের স্পিনে বিপাকে পড়েছিল স্বাগতিকরা। প্রথম দেড় ঘণ্টায় অ্যালেক্স ক্যারি, বেউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে ফিরিয়ে দেন তিনি। এতে অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ব্যবধানে হারানোর সম্ভাবনা জোরালো হয়ে ওঠে।
এর য়াগে, দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। দিনের সপ্তম ওভারেই ক্যারিকে ফেরান মিরাজ। ৭২ বলে ৩০ রান করে লিটন দাসের ক্যাচে ড্রেসিংরুমে ফেরেন ক্যারি। এতে গ্রিনের সঙ্গে তার ৫৬ রানের জুটি ভাঙে।
এরপর ওয়েবস্টারকে মাত্র ৫ রানে বোল্ড করেন মিরাজ। ১৩ মাস ও ১৩ ইনিংস পর টেস্টে হাফ সেঞ্চুরি করা গ্রিনকে সঙ্গ দিতে নেমেছিলেন তিনি। পরে প্যাট কামিন্সও বেশি সময় টিকতে পারেননি। ৮ রান করে সাদমান ইসলামের ক্যাচ হন তিনি। এটিও মিরাজের শিকার।
২০৭ রানে সপ্তম উইকেট হারানোর পর গ্রিন ও স্টার্কের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত ২৮৪ রানে থামল তাদের দ্বিতীয় ইনিংস।