ক্রিকেটে নিয়মের উদ্ভাবনে বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগ (বিবিএল)। এবার ১৬তম আসরে প্রস্তুতি নিচ্ছে এক নতুন কৌশল—‘ডেজিগনেটেড ব্যাটার ও ফিল্ডার’। মূলত বেসবলের কৌশল থেকে অনুপ্রাণিত এই নিয়ম কয়েক বছর ধরে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার অন্দরমহলে আলোচনার বিষয় ছিল।
নতুন নিয়মে, প্রতিটি দল এক ক্রিকেটারকে কেবল ব্যাটিংয়ের জন্য নামাতে পারবে। এই ‘ডেজিগনেটেড ব্যাটার’ মাঠে ব্যাটিং ছাড়া কোনো ফিল্ডিং বা বোলিং করতে হবে না। তবে এর বিনিময়ে দলের একাদশে একজন অতিরিক্ত ফিল্ডারের নাম ঘোষণা করতে হবে। এই ফিল্ডার পুরো ম্যাচ জুড়ে ফিল্ডিং বা উইকেটকিপিং করতে পারবে, কিন্তু কোনো ওভার বোলিং করতে পারবে না। চাইলে দল আগের মতোই সাধারণ একাদশ নিয়েও খেলতে পারবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নিয়ম বিশেষ করে বয়স্ক বা চোটপ্রবণ ব্যাটসম্যানদের ক্যারিয়ার দির্ঘ করতে সহায়ক হবে। এছাড়া জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচির কারণে ফিল্ডিংয়ের অতিরিক্ত চাপ এড়াতে চাইলে তারকারা এই লিগে নিয়মিত খেলতে উৎসাহিত হবেন। ঘরের মাঠে অ্যাশেজ বা আন্তর্জাতিক সিরিজের ক্লান্তি কাটাতে অনেক তারকা মাঝে মাঝে বিগ ব্যাশ থেকে বিরতি নেন; নতুন নিয়ম সেই শূন্যতা পূরণে সহায়ক হবে।
অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রিকি পন্টিং এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, অভিজ্ঞ ব্যাটাররা মাঠে ধরে রাখা যাবে। আর বিশেষজ্ঞ ফিল্ডার হিসেবে তরুণদের প্রতিভা বিকাশের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
যদিও আইপিএলের ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়মের সঙ্গে কিছুটা মিল আছে, তবে প্রয়োগ পদ্ধতি এখানে ভিন্ন। আইপিএলে বদলি খেলোয়াড় ব্যাটিং ও বোলিং উভয়ই করতে পারে, তবে বিগ ব্যাশে ব্যাটার ও ফিল্ডারের দায়িত্ব সুনির্দিষ্টভাবে ভাগ করা হয়েছে।
বিগ ব্যাশের ইতিহাসেও ‘পাওয়ার সার্জ’, ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ ও ‘ব্যাশ বুস্ট’-এর মতো নিয়ম দেখা গেছে। যদিও ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ ও ‘ব্যাশ বুস্ট’ তাড়াতাড়ি বাতিল হয়, ‘পাওয়ার সার্জ’ এখনও জনপ্রিয়। বর্তমানে চলতি ১৫তম আসরের মাঝেই ১৬তম আসরের এই নতুন উদ্ভাবন নিয়ে ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে চর্চা।