গাজার প্রশাসন পরিচালনার জন্য প্রতিক্ষীত বেসামরিক টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এই কমিটি গঠন করা হয় বলে মিসরীয় সম্প্রচার সংবাদমাধ্যম আল-কাহেরা নিউজ চ্যানেলের এক প্রতিবেদনে জানা যায়।
গাজায় যুদ্ধাবসানের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ২০টি পয়েন্ট সম্বলিত শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই পরিকল্পনা মেনেই গঠিত হয়েছে এ কমিটি। গাজার নতুন এই সরকারের নাম ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব দ্য গাজা স্ট্রিপ (এনসিএজি)।
এনসিএজি সরকারের ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাহী কমিটির প্রধান করা হয়েছে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর অঞ্চলের বাসিন্দা প্রকৌশলী আলী আবদেল হামিদ শাথকে। তিনি ছাড়া বাকি ১৫ জনের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে জানা যায়, তারা সবাই গাজার বাসিন্দা ও পেশাজীবী ছিলেন।
প্রেকৌশলী আলী আবদেল হামিদ শাথ এক সময় ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ক্ষমতাসীন ফাত্তাহ বা প্যালেস্টাইনিয়ান অথরিটির (পিএ) নেতৃত্বাধীন সরকারের উপ পরিকল্পনামন্ত্রী ছিলেন।
এনসিএজি গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংশ্লিষ্ট ছিল মিসর ও কাতার। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় বলা হয়, গাজার চূড়ান্ত শাসনক্ষমতার অধিকারী হবে বোর্ড অব পিস নামের একটি পরিষদ। ট্রাম্প নিজে সেই পরিষদের প্রধান হবেন। বোর্ড অব পিসের নির্দেশনা অনুযায়ী চলবে এনসিএজি সরকার।
বোর্ড অব পিসের নির্বাহী প্রতিনিধি হিসেবে মিসরে থাকবেন বুলগেরিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোলাই ম্লাদেনভ। এনজিএসটি প্রধান আলী আবদেল হামিদ শাথ বৃহস্পতিবার ম্লাদেনভের সঙ্গে কায়রোতে বৈঠক করেছেন বলে জানা যায়।
এনসিএজি গঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মার্কিন এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, এই সরকারের নিম্নপর্যায়ে পশ্বিম তীরের পিএ সরকারের প্রভাব থাকবে।
ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা ছিল তিন স্তরের। প্রথম পর্যায় শুরু হয়েছিল ১০ অক্টোবর থেকে এবং শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার। দ্বিতীয় পর্যায়ে গাজায় টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন ও হামাসের নিরস্ত্রিকরণকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।