আইপিএল ২০২৬ থেকে আকস্মিকভাবে বাদ পড়ার ঘটনায় বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও সে পথে হাঁটেননি তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ক্রিকেটারদের সংগঠন বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব)-এর সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন।
চলতি মাসের শুরুতে ‘নন-স্পোর্টিং’ কারণ দেখিয়ে কেকেআর মোস্তাফিজকে তাদের স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়। এর ফলে বাতিল হয়ে যায় তার সঙ্গে থাকা ৯ কোটি ২০ লাখ রুপির চুক্তিও। সিদ্ধান্তটি ক্রিকেটীয় পারফরম্যান্স কিংবা চোটজনিত না হওয়ায় বিষয়টি দ্রুতই বিতর্কের জন্ম দেয়।
এই ঘটনায় আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল মোস্তাফিজের। বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন পুরো ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে মনে করেছিল, কেকেআরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা তদন্তের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। সেই অনুযায়ী প্রয়োজন হলে আইনি সহায়তা দিতেও প্রস্তুত ছিল তারা।
তবে শেষ পর্যন্ত সবকিছু থেমে যায় মোস্তাফিজের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে। তিনি নিজেই বিষয়টি আর এগিয়ে নিতে চাননি। তার এই অবস্থানের কারণেই ক্রিকেটারদের সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিবাদ বা আইনি পদক্ষেপের পথে যায়নি।
এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় বিসিসিআইয়ের একটি নির্দেশনা থেকে। ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’, উগ্র ধর্মীয় ইস্যু এবং ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে কারণ দেখিয়ে কেকেআরকে মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর প্রভাব শুধু আইপিএলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায় এবং একই সময়ে বিসিবি আইসিসির কাছে ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ জানায়। ফলে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি সিদ্ধান্ত ছড়িয়ে পড়ে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের বিস্তৃত পরিসরে।