রাবাতে ফাইনালের রাতটি সেনেগালের জন্য ইতিহাসের হলেও, আফ্রিকান ফুটবলের জন্য রেখে গেছে তিক্ত এক স্মৃতি। মরক্কোর বিপক্ষে আফ্রিকান নেশনস কাপের ফাইনাল ম্যাচে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হয় একটি গোলেই, কিন্তু ম্যাচজুড়ে যে বিশৃঙ্খলা, বিতর্ক ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির জন্ম হয়েছে, তা জয়-পরাজয়ের গল্পকে অনেকটাই আড়াল করে দিয়েছে।
রোববার রাতে অতিরিক্ত সময়ে পাপ গেয়ির করা একমাত্র গোল সেনেগালকে এনে দেয় আফকনের দ্বিতীয় শিরোপা। কিন্তু সেই সাফল্যের পথে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়ে ওঠে রেফারির সিদ্ধান্ত, ভিএআর বিতর্ক এবং কোচের নির্দেশে খেলোয়াড়দের মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমে চলে যাওয়া—যা আন্তর্জাতিক ফুটবলে খুব কমই দেখা যায়।
নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে ভিএআর দেখে মরক্কোর পক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। সেই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়ে সেনেগাল শিবির। কোচ পাপ ঝাও প্রকাশ্যেই প্রতিবাদ জানিয়ে খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। কিছু সময় খেলা বন্ধ থাকে, স্টেডিয়ামে শুরু হয় চরম উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত সেনেগাল আবার মাঠে ফিরলেও, সেই দৃশ্য ম্যাচের মর্যাদাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।
পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াস। সহজ পানেনকা শট ঠেকিয়ে দেন সেনেগালের গোলরক্ষক মেন্দি। যেন সেই ব্যর্থতাই মরক্কোর ভাগ্য লিখে দেয়। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই ইদ্রিসা গেয়ির থ্রু বলে গোল করে সেনেগালকে এগিয়ে দেন পাপ গেয়ি। এরপর মরক্কো চেষ্টা করলেও আর ফেরা হয়নি।
এই জয়ে সেনেগাল প্রমাণ করেছে তাদের ধারাবাহিকতা—২০২১ সালের পর আবারও মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব। কিন্তু স্বাগতিক মরক্কোর জন্য অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো; ১৯৭৬ সালের পরও ট্রফি ছোঁয়া হলো না তাদের।
ম্যাচ শেষে আলোচনা গোল কিংবা কৌশল নিয়ে নয়, বরং রেফারিং, শৃঙ্খলার অভাব এবং ফুটবলের ভাবমূর্তি নিয়েই বেশি। ধারাভাষ্যকারদের হতাশ কণ্ঠ, দর্শকদের বিভ্রান্তি—সব মিলিয়ে রাবাতের এই ফাইনাল মনে থাকবে এক নাটকীয় কিন্তু অস্বস্তিকর রাত হিসেবে, যেখানে ফুটবলের সৌন্দর্য হার মানে ঘটনাবলির ভেতরে।