২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার নিজেকে গড়ে তুলছেন শুরু থেকে। ছুটি, বিশ্রাম কিংবা আরামের পথে হাঁটছেন না তিনি। বরং ক্লাব সতীর্থরা যখন মাঠের বাইরে, তখন সান্তোসের ট্রেনিং গ্রাউন্ডেই ঘাম ঝরাচ্ছেন নেইমার।
শৈশবের ক্লাব সান্তোসের সঙ্গে এক বছরের জন্য চুক্তি নবায়নের পর থেকেই তার লক্ষ্য আরও পরিষ্কার, সম্পূর্ণ ফিট হয়ে জাতীয় দলে ফেরা। বাম হাঁটুর আর্থ্রোস্কোপি অস্ত্রোপচারের পর কঠিন পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কারণ, কোচ কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল দলে জায়গা পেতে হলে নাম বা অতীত নয়, একমাত্র বিবেচ্য হবে শতভাগ ফিটনেস।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর মতে, নেইমার এখন প্রতিদিনই আলাদা করে ব্যক্তিগত অনুশীলন করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ছবিগুলোতেই স্পষ্ট তার সংগ্রাম। ফিজিক্যাল ট্রেনার রিকার্ডো রোসার তত্ত্বাবধানে কঠোর ব্যায়ামে ব্যস্ত নেইমারের হাঁটুর অস্ত্রোপচারের জায়গায় এখনও ব্যান্ডেজ দেখা যাচ্ছে। মুখের অভিব্যক্তিতে থেকেই অনুধাবন করা যায়, ফিরে আসার পথ এতটা সহজ নয়।
২২ ডিসেম্বর অস্ত্রোপচারের পর থেকে সান্তোসের ট্রেনিং সেন্টার এবং নিজের ব্যক্তিগত জিমে সময় কাটাচ্ছেন তিনি। পুনর্বাসনের শেষ ধাপে পৌঁছে যাওয়াই নেইমারের লক্ষ্য। ধারণা করা হচ্ছে, জানুয়ারির শেষ দিকে শারীরিক ট্রানজিশন ট্রেনিং শুরু করবেন নেইমার, যেখানে পূর্ণমাত্রার চাপ সহ্য করতে হবে তাকে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ফেব্রুয়ারির শুরুতেই মাঠে ফিরতে পারেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। ৪ ফেব্রুয়ারি সাও পাওলোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, যদিও শেষ সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে অনুশীলন ও ম্যাচ-ফিটনেসের ওপর।
সৌদি ক্লাব আল হিলাল ছাড়ার পর ২০২৪ সালের শুরুতে সান্তোসে ফিরে এসে নেইমার খেলেছেন ঝুঁকি নিয়েই। একাধিক চোট সত্ত্বেও মৌসুমের শেষ দিকে মাঠে নেমে দলকে ব্রাজিল লিগ সেরি ‘এ’ থেকে রেলিগেশন এড়াতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। সেই অবদানই সান্তোস কর্তৃপক্ষকে নেইমারের ব্যাপারে ধৈর্যশীল করেছে এবং চুক্তি নবায়নের অনিশ্চয়তাও দূর হয়েছে।
এদিকে আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। তার আগে সময় খুব বেশি নেই কোচ আনচেলত্তির হাতে। ধারণা করা হচ্ছে, মার্চের দুটি প্রীতি ম্যাচের পরই চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন ব্রাজিল কোচ। আর সেই দলে জায়গা পেতে নেইমারের লড়াইটা এখন আর প্রতিপক্ষের সঙ্গে নয়, বরং নিজের শরীর আর সময়ের সঙ্গেই।