মাঠে নামার আগে কি এই খবরটা কানে গিয়েছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর? নাকি সৌদি আরবের স্টেডিয়ামের আলোয় পা রাখার মুহূর্তে তিনি জানতেনই না—হাজার মাইল দূরে নিজের জন্মভূমি মাদেইরাতে তার ভাস্কর্য তখন আগুনে পুড়ছে!
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও মুহূর্তেই নাড়িয়ে দেয় ফুটবলবিশ্বকে। পর্তুগালের মাদেইরায় অবস্থিত ‘সিআর সেভেন’ মিউজিয়ামের সামনে রোনালদোর ব্রোঞ্জ ভাস্কর্যে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এক ব্যক্তি। অদ্ভুতভাবে র্যাপ সংগীতের তালে নাচতে নাচতেই সেই আগুন লাগানোর দৃশ্য নিজেই ভিডিও করে পোস্ট করে সে। মুহূর্তে তা ভাইরাল।
ভিডিওতে নিজেকে ‘স্থানীয় ব্যক্তি’ বলে পরিচয় দেওয়া ওই লোক লেখে, ‘এটি ঈশ্বরের শেষ সতর্কতা।’ কিসের সতর্কতা, কার উদ্দেশ্যে—তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। মাদেইরার পুলিশ এখন তাকে ধরতে হন্যে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, অতীতেও সে এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। তদন্ত চলছে, গ্রেপ্তার এখনও বাকি।
কিন্তু এই সব কিছুর মাঝেই, হাজার গোলের দিকে দুরন্ত গতিতে ছুটে চলা রোনালদো যেন অন্য এক জগতে। সৌদি প্রো লিগে দামাক এফসির বিপক্ষে ম্যাচ। আল নাসরের জার্সিতে মাঠে নেমে আবারও নিজের নাম লেখালেন স্কোরশিটে। ২-১ গোলে জয়ের ম্যাচে দলের দ্বিতীয় গোলটি তার পা থেকেই। ক্যারিয়ারে মোট গোলসংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ৯৬০। যেন বাইরের আগুন তাঁর ভেতরের ক্ষুধাকে আরও উসকে দিয়েছে।
আল নাসরের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৩১ ম্যাচে রোনালদোর গোল এখন ১১৬টি। এর মাধ্যমে তিনি মরক্কোর আব্দেররাজাক হামদাল্লাহকে ছাড়িয়ে ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে সফল বিদেশি গোলদাতা। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর সামনে এখন শুধু ইতিহাসই দাঁড়িয়ে। দেশি-বিদেশি মিলিয়ে সৌদি ক্লাব ফুটবলে তার ওপরে আছেন কেবল দুজন, মোহাম্মাদ আল সাহলাউই (১৩১ গোল) এবং কিংবদন্তি মাজেদ আবদুল্লাহ (২৫৯ গোল)।
চলতি মৌসুমে তো তিনি অপ্রতিরোধ্য। ১৬ ম্যাচে ১৬ গোল, লিগের গোল স্কোরিং-এ শীর্ষে সিআর সেভেন। ইভান টনি ১৪ গোল নিয়ে তার পেছনে। রোনালদোর গোল পাওয়া সেই রাতে আল নাসর পেল টানা দ্বিতীয় জয়, ভাঙল চার ম্যাচের জয়হীনতার হতাশা। আর ঠিক তখনই প্রশ্নটা ফিরে আসে— এই ঐতিহাসিক ছুটে চলার ঠিক আগে, নিজের মূর্তিতে আগুন দেওয়ার খবরটা কি তিনি শুনেছিলেন? নাকি রোনালদো আবারও প্রমাণ করলেন— সমালোচনা, বিদ্বেষ কিংবা আগুন—কিছুই তার পায়ের গতি থামাতে পারে না।
যে ভাস্কর্যে আগুন দেওয়া হলো, সেটি ২০১৪ সালে নিজ হাতে উন্মোচন করেছিলেন রোনালদো। আগুনে সেটি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে সমর্থকদের ক্ষোভ স্পষ্ট—অনেকেই ঘটনাটিকে সস্তা প্রচারণা আর বিকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলছেন। একদিকে জন্মভূমিতে আগুন, অন্যদিকে মাঠে গোলের আগুন— ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জীবন বোধহয় এমনই।