আগামী জুনে অনুষ্ঠেয় ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। স্বাগতিক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উপযুক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে টুর্নামেন্ট বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটার।
জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের পর ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর ২৩তম আসর বর্জনের আলোচনা এবার আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। ইউরোপের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সম্পর্কের অবনতিই এই আহ্বানের মূল কারণ বলে ইঙ্গিত দেন ব্লাটার।
এর আগে জার্মানির এক রাজনীতিবিদ ও ইংলিশ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব পিয়ার্স মরগান বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক দেন। পরে সেই কণ্ঠে সুর মেলান নেদারল্যান্ডসের পরিচিত টেলিভিশন প্রডিউসার টিউন ফন দ্য কেউকেন। যিনি ডাচ ফুটবল দলকে বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। সর্বশেষ ব্লাটারের মন্তব্যে স্বাগতিক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্স (টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে ব্লাটার সুইস সংবাদপত্র ‘ডার বুন্ড’-এ প্রকাশিত মার্ক পিয়েথের সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারের মন্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান। অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও দুর্নীতিবিরোধী আইনজীবী পিয়েথ এক দশক আগে ফিফার সংস্কার কার্যক্রম তদারকিতে গঠিত স্বাধীন গভর্ন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা যা কিছু আলোচনা করেছি, তা বিবেচনায় নিলে সমর্থকদের জন্য একটাই পরামর্শ; যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন না। টিভিতে দেখলেই বরং ভালোভাবে উপভোগ করা যাবে। আর যারা সেখানে যাবেন,কর্তৃপক্ষের মনঃপূত না হলে সরাসরি পরের ফ্লাইটেই দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। যদি ভাগ্য ভালো থাকে।’
পিয়েথের এই মন্তব্য উদ্ধৃত করে ব্লাটার লেখেন, ‘আমি মনে করি, এই বিশ্বকাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে মার্ক পিয়েথ ঠিকই বলেছেন।’
যুক্তরাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে ফুটবল মহলের এই উদ্বেগের পেছনে রয়েছে একাধিক বিষয় স্পষ্ট। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের সম্প্রসারণবাদী অবস্থান, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, এবং অভিবাসন ও অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ দমনে বিভিন্ন শহরে, বিশেষ করে মিনিয়াপোলিসে, কঠোর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা। এসব কারণেই বিশ্বকাপ ঘিরে সমর্থকদের নিরাপত্তা ও অবাধ চলাচল নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।
এই প্রেক্ষাপটে জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ওকে গ্যটলিশ গত শুক্রবার মর্গেনপোস্ট পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টি এখন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার সময় এসে গেছে।’
এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সরাসরি পড়েছে ফুটবল সমর্থকদের ওপর। দুই সপ্তাহ আগে আফ্রিকার শীর্ষ দুই ফুটবল দেশ সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ভিসা আগে থেকে না থাকলে তাদের কার্যত যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়। এই নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে ট্রাম্প ‘স্ক্রিনিং ও যাচাই-বাছাইয়ের ঘাটতি’-র কথা বলেন।
এ ছাড়া বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া ইরান ও হাইতির সমর্থকরাও যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার সুযোগ পাবেন না। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত প্রথম দফার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় এই দুই দেশও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা বিশ্বকাপকে ঘিরে চলমান বয়কট বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।