ফুটবলে ব্যক্তিগত স্বীকৃতির আকাঙ্ক্ষা থাকে প্রায় সবারই। গত মৌসুমে সেই স্বীকৃতির শীর্ষ মুকুট ব্যালন ডি’অর উঠেছে ফরাসি তারকা উসমান ডেম্বেলের মাথায়। তবে এই পুরস্কারের দৌড়ে শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে পড়া ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনিয়ার হতাশা এখনো কাটেনি।
২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেকে দেখলেও পুরস্কারটি ডেম্বেলের হাতে যাওয়ায় বিস্মিত ও হতাশ হয়েছেন বার্সেলোনার এই উইঙ্গার। সোফাস্কোরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতির কথা অকপটে তুলে ধরেন রাফিনিয়া।
তিনি বলেন, ‘আমি খুবই হতাশ হয়েছিলাম। অন্তত শীর্ষ তিনে থাকব বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু আমি পঞ্চম হলাম, যা আমার জন্য বিস্ময়কর।’
ব্যালন ডি’অর নির্ধারণে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রভাব বড়, এ কথাও স্বীকার করেছেন রাফিনিয়া। তবে পুরো মৌসুমের পারফরম্যান্স বিচার করলে নিজেকে এগিয়ে রাখছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘জানতাম জেতা কঠিন, কারণ এই পুরস্কারে চ্যাম্পিয়নস লিগ অনেক বড় ভূমিকা রাখে। তবু আমার মনে হয়েছে, পুরো মৌসুমের পারফরম্যান্স বিবেচনা করলে আমি প্রথম হওয়ার যোগ্য ছিলাম।’
একটি ব্যক্তিগত পুরস্কার শুধুমাত্র একটি প্রতিযোগিতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়, এমন মতও দিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান। রাফিনিয়া বলেন,
‘শিরোপা, পরিসংখ্যান এবং মাঠে আমার অবদান; সব মিলিয়ে মনে করি, আমি ব্যালন ডি’অর জেতার যোগ্য ছিলাম।’
পরিসংখ্যানও তার দাবিকে সমর্থন করে। গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫৬ ম্যাচে ৩৪ গোল করার পাশাপাশি ২৫টি অ্যাসিস্ট করেন রাফিনিয়া। তার নেতৃত্বে বার্সেলোনা জেতে লা লিগা, কোপা দেল রে এবং স্প্যানিশ সুপার কোপা।
ইউরোপের মঞ্চেও ছিলেন উজ্জ্বল। চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৪ ম্যাচে তার অবদান ১৩ গোল ও ৯ অ্যাসিস্ট। তবে সেমিফাইনালে থেমে যাওয়ায় শিরোপা না জেতাটাই তার ব্যালন ডি’অর স্বপ্নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন তিনি। রাফিনিয়া বলেন, ‘এটা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে, যা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। যদি পুরো মৌসুমের ভিত্তিতে বিচার হতো, তাহলে আমি জিততাম।’
বিষয়টা একেবারেই হাস্যকর শোনালেও, আবেগ চেপে রাখতে না পেরে নিজের দৃষ্টিতে ব্যালন ডি’অরের সেরা তালিকাও তুলে ধরেছেন রাফিনিয়া। তার মতে, ‘আমি প্রথম, লামিন ইয়ামাল দ্বিতীয়, পেদ্রি তৃতীয় এবং ডেম্বেলে চতুর্থ হওয়ার যোগ্য ছিল।’
এরপর ডেম্বেলের প্রশংসা করে রাফিনিয়া বলেন, ‘যেহেতু পুরস্কারটি মূলত একটি প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়, ডেম্বেলে জিতেছে এবং সে সত্যিই দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছে।’
তবে এমন আবেগি আচরণ করায় ফুটবল দুনিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ব্রাজিলিয়ান এই তারকা খেলোয়াড়। বিশ্লেষকদের মতে লামিন ইয়ামালের দ্বিতীয় অবস্থানে থাকাও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তবে সবাই অকপটে স্বীকার করেছেন এই পুরস্কার যোগ্য মানুষের কাছেই স্থান পেয়েছে।