পহেলা ফেব্রুয়ারি, স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে লাহোরের সেই রাতটা ছিল অস্ট্রেলিয়ার জন্য দুঃস্বপ্নের, আর ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এক রোমাঞ্চকর বিতর্কের জন্মদাতা।
২০৮ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য। হোয়াইট-ওয়াশের ভয়, স্কোরবোর্ডে তখন উত্তেজনা আর ড্রেসিংরুমে বাড়তি চাপ। মাত্র ৮২ রানেই অস্ট্রেলিয়া হারায় ৬ উইকেট। এমন মুহূর্তে দলের ভরসা হয়ে ক্রিজে আসেন অলরাউন্ডার কুপার কনোলি। গ্যালারিতে শোরগোল, পাকিস্তান শিবিরে প্রত্যাশা, একটা উইকেট মানেই ম্যাচ প্রায় শেষ।
মোহাম্মদ নওয়াজ তার স্পেলে আসেন। প্রথম বল, চাপ। দ্বিতীয় বল, নাটক। ডাউন দ্য ট্র্যাকে এগিয়ে এসে বড় শট খেলতে চেয়েছিলেন কনোলি। কিন্তু বল পুরোপুরি মিস। বল ঘুরে যায় লেগ সাইডে। এক ঝলক চোখের পলকে উইকেটকিপার খাজা নাফে স্টাম্প ভেঙে দেন। মাঠের আম্পায়ারের আঙুল উঠে যায় উপরে, আউট!
অস্ট্রেলিয়া হারায় সপ্তম উইকেট, স্কোর দাঁড়ায় সাত উইকেটের বিনিময়ে ৮২ রান। এরপর আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগই পায়নি সফরকারীরা। মাত্র ৯৬ রানেই গুটিয়ে যায় ইনিংস, ব্যবধান ১১১ রান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হার। মাঠে তখন পাকিস্তানের উৎসব, অস্ট্রেলিয়ার হতাশা। কিন্তু গল্পটা এখানেই শেষ নয়।
ম্যাচ শেষ হতেই টেলিভিশন রিপ্লে ধীরে ধীরে বদলে দিতে শুরু করে পুরো দৃশ্যপট। স্লো-মোশনে ধরা পড়ে এক চমকে দেওয়ার মত তথ্য। স্টাম্প ভাঙার সময় খাজা নাফে ব্যবহার করেছিলেন তার বাঁ-হাত। অথচ বলটি ছিল তার ডান হাতে। অর্থাৎ, যে হাতে স্টাম্প ভাঙা হয়েছে, সেই হাতে বলই ছিল না! যেটা মাঠে চোখ এড়িয়ে গিয়েছিল, সেটাই হয়ে ওঠে ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
আইসিসির বর্তমান আইন কিন্তু একেবারে স্পষ্ট। পুরুষদের টি-টোয়েন্টি প্লেয়িং কন্ডিশনের ধারা ২৯.২.১ অনুযায়ী, কোনো উইকেট তখনই ‘সঠিকভাবে ভাঙা’ বলে গণ্য হবে, যখন যে হাত বা বাহু দিয়ে বেল সরানো হবে বা স্টাম্প উপড়ে ফেলা হবে, সেই হাতেই বল থাকতে হবে। ফিল্ডার বা উইকেটকিপার যদি অন্য হাতে বল রেখে স্টাম্প ভাঙেন, তবে সেটি আইনের চোখে বৈধ নয়।
এই ঘটনায় সেই মৌলিক শর্ত পূরণ হয়নি। ফলে আইসিসির আইন অনুযায়ী, কুপার কনোলিকে আউট ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। এক মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্ত বদলে দিয়েছে একটি ম্যাচের গতিপথ, আর জন্ম দিয়েছে এমন এক বিতর্কের যা হয়তো আরও অনেক দিন ক্রিকেট আলোচনায় ঘুরে বেড়াবে।
ঘটনাটি পাকিস্তানে সম্প্রতি সফর করা অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি সিরিজের। একদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে নতুন বার্তা ছড়িয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড যেন আগেই নাটকের মঞ্চ সাজিয়ে রেখেছিল। আর ঠিক সেই সময়ই, ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দল উপহার দিল আরেক অধ্যায়, এক বিতর্কিত স্টাম্পিং, যা মুহূর্তেই চর্চার পারদ চড়িয়ে দেয়।
সদ্য শেষ হওয়া অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজে জয় উঠেছে স্বাগতিকদের ঘরেই। স্কোরলাইনে সব পরিষ্কার মনে হলেও, ম্যাচের পরপরই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন অস্ট্রেলিয়ার তরুণ ক্রিকেটার কুপার কনোলি। তার আউট ঘিরেই নতুন করে জন্ম নেয় বিতর্ক।