টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আইসিসির সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেও দৃঢ় অবস্থান নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলাদেশ। খেলোয়াড় সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা ও টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নিয়ে চাপ থাকলেও নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে একচুলও সরে আসেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশের এই সাহসী অবস্থানের প্রকাশ্য প্রশংসা করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন।
বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে এই ইস্যুতে সমর্থন জানিয়েছে পাকিস্তানও। বৈশ্বিক ক্রিকেট ব্যবস্থাপনায় দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ তুলে দুই দেশের অবস্থানকে অনেকেই দেখছেন বিরল এক আঞ্চলিক সংহতি হিসেবে, যা আইসিসির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
স্কাই স্পোর্টসের একটি পডকাস্টে নাসের হুসেইন সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন আইসিসির নিরপেক্ষতা নিয়ে। তার প্রশ্ন, বড় কোনো বোর্ড জড়িত থাকলে কি আইসিসি একইভাবে কঠোর অবস্থান নিত? নাসের বলেন, টুর্নামেন্টের এক মাস আগে যদি ভারত জানাত যে তাদের সরকার কোনো নির্দিষ্ট দেশে বিশ্বকাপে খেলতে চায় না, তাহলে কি আইসিসি একই নিয়ম প্রয়োগ করত, এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি।
বাংলাদেশের অবস্থানের প্রশংসা করতে গিয়ে নাসের বিশেষভাবে তুলে ধরেন মুস্তাফিজুর রহমানের বিষয়টি। তার মতে, বাংলাদেশ শুধু নিজেদের স্বার্থ নয়, নিজেদের খেলোয়াড়ের পাশেও দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে। ‘তারা তাদের খেলোয়াড় ফিজের জন্য লড়েছে এবং অবস্থানে অটল থেকেছে,’ বলেন নাসের।
পাকিস্তানের সমর্থন নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন সাবেক এই ইংলিশ অধিনায়ক। তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো- আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অর্থই সবচেয়ে বড় শক্তি। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আর্থিক প্রভাব দিয়েই মূলত আইসিসি কিংবা বড় বোর্ডগুলোর ওপর চাপ তৈরি করা সম্ভব হয়, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা রাখে।
নাসের হুসেইনের মতে, পুরো বিতর্কের মূল প্রশ্ন একটাই- নিয়ম কি সবার জন্য সমান। বাংলাদেশ, পাকিস্তান কিংবা ভারত; সব দেশকেই একই মানদণ্ডে বিচার করা উচিত বলে মত দেন তিনি।
একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অর্থনৈতিক আধিপত্য অনেক সময় সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে দিলেও ক্ষমতার সঙ্গে দায়িত্বও আসে। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ক্রিকেটের নৈতিক ভিত্তিই প্রশ্নের মুখে পড়বে।