টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে বড় ধাক্কা খেল ভারত ও শ্রীলঙ্কা। চোটের কারণে শেষ মুহূর্তে স্কোয়াডে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে দুই দেশই। এতে বিশ্বকাপ শুরুর আগে দল গঠনের পরিকল্পনাতেই বড় প্রশ্ন উঠেছে।
ভারতের ক্ষেত্রে বিশ্বকাপের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে তরুণ অলরাউন্ডার হারশিত রানার জন্য। হাঁটুর চোটে ছিটকে গেছেন তিনি। তার বদলে দলে নেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ সিরাজকে, যিনি দীর্ঘদিন পর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের প্রস্তুতি ম্যাচেই চোট পান রানা। নাবি মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে মাত্র এক ওভার বোলিং করার পরই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। হাঁটুতে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় তাকে মাঠের বাইরে যেতে দেখা যায়, যা তখনই শঙ্কার জন্ম দিয়েছিল। পরদিন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব জানিয়ে দেন, রানার অবস্থা আশাব্যঞ্জক নয়। শেষ পর্যন্ত বিসিসিআই বিবৃতিতে নিশ্চিত করে তার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার খবর।
রানাকে হারানো ভারতের জন্য বাড়তি ধাক্কা, কারণ শেষের দিকে কার্যকর ব্যাটিং করার সক্ষমতা ছিল তার। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড সিরিজে একটি ফিফটি হাঁকিয়ে সেই সামর্থ্যের প্রমাণও দিয়েছিলেন। বিশ্বকাপে ইনিংসের শেষ ওভারগুলোতে এই বাড়তি ব্যাটিং অপশনটাই সবচেয়ে বেশি অনুভূত হতে পারে।
তার বদলি সিরাজ অভিজ্ঞ হলেও সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি দলে নিয়মিত ছিলেন না। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ভারতের হয়ে এই সংস্করণে খেলেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তার পরিসংখ্যান মাঝারি হলেও আইপিএলে বিপুল অভিজ্ঞতা আছে সিরাজের। আজ যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলবে ভারত।
ভারতের পাশাপাশি চোটের ধাক্কা এসেছে শ্রীলঙ্কা শিবিরেও। দলের পেসার ঈশান মালিঙ্গা কাঁধের চোটের কারণে এবারের বিশ্বকাপে খেলতে পারছেন না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে এই চোট পান তিনি। আইপিএল ২০২৫-এ ভালো পারফরম্যান্সের সুবাদে শ্রীলঙ্কার পেস আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন মালিঙ্গা। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার আগেই থামতে হলো তাকে। তার জায়গায় স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন বাঁহাতি পেসার প্রমোদ মাদুশান।
মাদুশান খুব পরিচিত নাম না হলেও পরিসংখ্যানের দিক থেকে পিছিয়ে নেই। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আট ম্যাচে ১২ উইকেট নেওয়া এই পেসারের ইকোনমিও তুলনামূলকভাবে ভালো। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এটি তার জন্য নিজেকে প্রমাণের সুযোগ।
শ্রীলঙ্কা তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ৮ ফেব্রুয়ারি, কলম্বোতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। গ্রুপ বি-তে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে ও ওমান। যেখানে প্রতিটি ম্যাচই হতে পারে কঠিন পরীক্ষা।
বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে এই অনাকাঙ্ক্ষিত চোট দুই দলের কৌশলেই বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, শেষ মুহূর্তে আসা বদলিগুলো চাপ সামলাতে পারে কিনা, নাকি চোটের প্রভাবই রয়ে যাবে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে।