যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বৈষম্যমূলক দাবি করে তা বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সিপিডির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘এই চুক্তি দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। নতুন সরকারের উচিত তা পুনর্বিবেচনা করা।’
সিপিডি নতুন সরকারের প্রতি পরামর্শ দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদায়ী সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তি থেকে সরে আসার। তারা মনে করছে, প্রফেসর ড. ইউনূসের প্রশাসন বিদায় বেলায় মার্কিন সরকারের সঙ্গে একটি বৈষম্যমূলক চুক্তি করেছে।
সিপিডি আশা প্রকাশ করেছে, নতুন প্রশাসন দেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর ও সমন্বিত নীতি গ্রহণ করবে।
এ ছাড়া জাপানের সঙ্গে করা ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) চুক্তি দেশের জ্বালানি রূপান্তর বিলম্বিত করতে পারে বলেও অভিযোগ তোলে সিপিডি। এটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ সময় দেশে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ না করার নীতি গ্রহণেরও আহ্বান জানায় সংস্থাটি। কয়লা উত্তোলনের যে কোনো উদ্যোগ নবায়নযোগ্য জ্বালানী থেকে সরে আসার প্রবণতা তৈরি করবে। সেক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন কুপ অনুসন্ধান নবায়নযোগ্য জ্বালানী ও সৌরশক্তি ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
শ্রমিকদের মজুরির জন্য কাজ করার দরকার রয়েছে বলে জানান তিনি। সেই সঙ্গে ইপিজেডকে আলাদা করে না রেখে, এককভাবে ওয়েজ বোর্ড করার আহ্বানও জানান ড. খন্দকার।
সংসদ সরকারের জবাবদিহিতার প্রসঙ্গে ড. খন্দকার বলেন, ‘জাতীয় সংসদ সরকারের জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। বেসরকারি বিল কোনোভাবেই আসে না, বর্তমান সংসদকে এ বিষয়ে জোর দিতে হবে। প্রশ্নোত্তর পর্বটি বিরোধীদল যেন কাজে লাগায়। স্থায়ী কমিটিগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।’
সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত হওয়া দরকার বলেও মন্তব্য করে সংস্থাটি। পাশাপাশি পাকিস্তান-আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্তিতি জ্বালানী খাতে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা করেন তিনি।