প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরে বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল রপ্তানির বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাঁঠাল আমদানিকারক দেশের বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি শুধু কাঁঠাল নয়, দেশের অন্যান্য কৃষিপণ্যের জন্যও নতুন রপ্তানি বাজার উন্মুক্ত করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। অবকাঠামো, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল অর্থনীতির পাশাপাশি কাঁঠাল রপ্তানিও এর অন্যতম বিষয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর ফলে চীনে কাঁঠাল রপ্তানির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববাজারে কাঁঠালের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০১২ সালে বৈশ্বিক কাঁঠাল রপ্তানির বাজার ছিল প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার, যা ২০২৩ সালে বেড়ে প্রায় ৩৭০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। চীন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাঁঠাল আমদানিকারক হলেও তাদের চাহিদার বড় অংশ যায় ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকে। অন্যদিকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম কাঁঠাল উৎপাদনকারী দেশ হলেও বৈশ্বিক রপ্তানিতে দেশের অংশ মাত্র ০.৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফল গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে আট থেকে ১০ লাখ মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদিত হলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা কম এবং রপ্তানির সুযোগ সীমিত থাকায় ৪৫ শতাংশের বেশি কাঁঠাল নষ্ট হয়ে যায়। গবেষকরা ইতোমধ্যে কাঁঠাল থেকে চিপস, আচার, জেলি, কেক, আইসক্রিম, ভেজিটেবল মিটসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরি করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব প্রক্রিয়াজাত পণ্যেরও আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। কৃষি অর্থনীতিবিদ ও রপ্তানিকারকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হলে পণ্যের মান, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিংয়ের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের বেশির ভাগ কৃষিপণ্য শুধু প্রবাসীকেন্দ্রিক বাজারে রপ্তানি হয়। ফলে চীনের মতো বড় বাজারে প্রবেশের আগে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীন যদি প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তায় বিনিয়োগ করে, তাহলে কাঁঠাল রপ্তানি আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আধুনিক প্রযুক্তি অর্জনের পাশাপাশি অন্যান্য কৃষিপণ্যের জন্যও নতুন বাজার তৈরি করতে পারবে। তবে রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের স্থানীয় চাহিদা ও পুষ্টি নিরাপত্তার বিষয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।