ইরানের হামলা চালানোর তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েল। তারা এটিকে ‘পূর্ব-নির্ধারিত আক্রমণ’ বলে উল্লেখ করেছে। ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সি বলছে, তারা কইরানের রাজধানীর রিপাবলিক এলাকায় বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পেয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক বিবৃতিতে ইসরায়েলজুড়ে ‘বিশেষ ও স্থায়ী জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন।
এর আগে গত ২২ জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন যুদ্ধবিমান বোমা হামলা চালিয়েছিল। সেগুলো হলো—ফোর্দো, নাতানজে ও ইসফাহান। এর মধ্যে ফোর্দো ইরানের দূরবর্তী পাহাড়ি এলাকার ভেতর লুকানো একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্র ওই হামলা চালানোর আগে ১৩ জুন ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে আকস্মিক হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। ইসরায়েল তখন দাবি করেছিল, তাদের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে ইরান খুব শিগগিরই পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে সক্ষম হবে। ইসরায়েলের হামলার জবাবে তেহরানও তখন ইসরায়েলের দিকে শত শত রকেট ও ড্রোন ছুঁড়ে।
সম্প্রতি পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে ইরানে হামলা করা হবে—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন হুমকির মধ্যেই জেনেভায় তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় বসেছিলেন মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। ট্রাম্প যাকে ‘আর্মাডা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যেখানে দুটি বিমানবাহী রণতরি, অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি বহনকারী বিমান রয়েছে।
গত মাসে ট্রাম্প প্রথমবারের মতো ইরানে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নির্মমভাবে দমন করার সময় হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ওই হুমকি দেন তিনি।