লেবাননের রাজধানী বৈরুতে স্থানীয় সময় সোমবার (২ মার্চ) মধ্যরাত ৩টার কিছু আগে শহরজুড়ে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম থেকে জেগে উঠেছে সেখানকার বাসিন্দারা। এর আগে লেবানন থেকে ইসরায়েলে হামলা হয়।
ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করেছে। এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, উত্তর ইসরায়েলের একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সাইটে ‘একযোগে নির্ভুলভাবে রকেট ও ড্রোন হামলা’ চালানো হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা করেছে তারা।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে, এই গোষ্ঠীটি ‘ইসরায়েলের জন্য হুমকি’ এবং তারা ‘উত্তর ইসরায়েলের বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি করতে দেবে না’। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে লেবাননকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালাচ্ছে তারা। হিজবুল্লাহর নিক্ষেপ করা প্রজেক্টাইল ইসরায়েলি ভূখণ্ডের উন্মুক্ত স্থানে পড়েছে।
তবে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে রকেট নিক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক করেছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। তিনি লিখেছেন, ‘এর পেছনে যে পক্ষই থাকুক না কেন, দক্ষিণ লেবানন থেকে রকেট নিক্ষেপ একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সন্দেহজনক কাজ, যা লেবাননের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে এবং ইসরায়েলকে তাদের হামলা চালিয়ের যাওয়ার জন্য অজুহাত তৈরি করে।’
হিজবুল্লাহ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি শিয়া মুসলিম সংগঠন, যেটি লেবাননের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে। গোষ্ঠীটিকে বিংশ শতাব্দীর আশির দশকের গোড়ার দিকে ইসরায়েলের বিরোধিতা করার জন্য এই অঞ্চলের সবচেয়ে প্রভাবশালী শিয়া শক্তি ইরান প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। হামলায় খামেনিসহ অন্তত ৪৮ জন নেতা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের অভিযান ‘খুব ভালোভাবে দ্রততার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে’ বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের বর্তমান নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে বলে জানান ট্রাম্প। তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে তিনি নিজেও রাজি আছেন বলে জানিয়েছেন।