ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তাকে অগ্রাধিকার হিসেবে গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে ‘যুদ্ধের দ্রুত অবসানের প্রয়োজনীয়তা’ পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদি সোমবার (২ মার্চ) মধ্যরাতে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি তিনি বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার হিসেবে জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন।
নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, ‘বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে ভারতের উদ্বেগ জানানো হয়েছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ভারত যুদ্ধের দ্রুত অবসানের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে।’
পরবর্তী আরেকটি পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে আমি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে ভারতের উদ্বেগ প্রকাশ করেছি এবং নাগরিকদের নিরাপত্তাই যে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, তা জোর দিয়ে বলেছি। ভারত যুদ্ধের দ্রুত অবসানের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে।’
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী মোদি আরও জানান, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গেও কথা বলেছেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি এসব হামলায় প্রাণহানিতে শোক প্রকাশ করেছেন।
মোদি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি ভারতের সংহতির কথা জানিয়েছেন বলেও এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন তিনি। তিনি লিখেছেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট, আমার ভাই শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে কথা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং এসব হামলায় প্রাণহানিতে শোক প্রকাশ করি। এই কঠিন সময়ে ভারত সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশে রয়েছে। সেখানে বসবাসরত ভারতীয়দের দেখভালের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। আমরা উত্তেজনা প্রশমন, আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার পক্ষে।’
এই ফোনালাপগুলো এমন এক সময় হলো, যখন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা—‘অপারেশন রোরিং লায়ন/অপারেশন এপিক ফিউরি’র পর আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ ও জামাতা নিহত হয়েছেন।
সূত্র: এএনআই