তেহরানের বাসিন্দারা রোববার (৮ মার্চ) সকালে দিনের আলো দেখার প্রত্যাশায় জেগে উঠলেও পুরো শহর ছিল ঘন অন্ধকারে আচ্ছন্ন। আগের রাতে জ্বালানি ডিপোতে ইসরায়েলের বিমান হামলা এর কারণ।
আগুনের কুণ্ডলী থেকে সৃষ্ট কালো ধোঁয়ায় সূর্যোদয়ের অনেক পরেও দিনের আলো ফুটে উঠতে পারেনি। ফলে রাজপথ ছিল অন্ধকারে ঢাকা।
তেহরানের পাঁচটি প্রধান জ্বালানি মজুত কেন্দ্রে চালানো এই হামলা নিয়ে ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল প্রোডাক্টস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী বলেন, হামলায় দুজন ট্যাঙ্কার চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে আশপাশের ভবনের জানালার কাচ চুরমার হয়ে যায়।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের আকাশে আগুনের কুণ্ডলী উঠছে। রাজধানীর ওপর কালো ধোঁয়া ভেসে যাচ্ছে।
আরেক ভিডিওতে দেখা গেছে, তেলের ট্যাঙ্কার থেকে চুইয়ে পড়া জ্বালানির কারণে রাস্তাজুড়ে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ছে।
রোববার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শহরের ভালিয়াসার স্ট্রিটে গাড়িগুলোকে অন্ধকারে পথ দেখতে হেডলাইট ব্যবহার করতে হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের সতর্ক করে জানিয়েছে, এই বাতাস শ্বাস নেওয়ার জন্য বিপজ্জনক।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বলেছে, বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত হাইড্রোকার্বন, সালফার ও নাইট্রোজেন অক্সাইড নির্গত হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যাহত হয়েছে রাজধানী শহরে জ্বালানি সরবরাহ।
তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামেদিয়ান জানান, শহরের জ্বালানি সরবরাহ ‘সাময়িকভাবে বিঘ্নিত’ হয়েছে। তবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধে এই প্রথম ইরানে তেলের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলো।
এর আগে গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে তেহরানে তেলের স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি