ট্রাম্পের ইরান হামলা স্থগিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা পুনরায় পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তার এ ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে দাম কমেছে জ্বালানি তেলের। তবে হোয়াইট হাউস থেকে বিভ্রান্তিমূলক বার্তা আসার কারণে শেয়ারবাজারও চাপের মুখে পড়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) রাত আড়াইটায় দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১.৫ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হচ্ছে ৯৩.৭ ডলারে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১.৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেল প্রতি ১০৬.১২ ডলারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট গত শনিবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, যদি ইরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে না দেয়, তাহলে তিনি ইরানের জ্বালানি সংক্রান্ত স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে ফেলবেন। কিন্তু পরে তিনি ইতিবাচক শান্তিচুক্তি আলোচনার কথা বলে সেই সময়সীমা আরও পাঁচ দিন পিছিয়ে দিয়েছেন। যদিও তেহরান দাবি করেছে, এমন কোনো আলোচনা হয়নি।
তবে উভয় পক্ষের কয়েক দিনের হামলা এবং বহু-দফা দাবির আদান-প্রদানসহ আলোচনা সংক্রান্ত মিশ্র খবরের পর, তেহরানের অনুরোধে তিনি বৃহস্পতিবার আবারও হামলা ৬ এপ্রিল রাত ৮টা পর্যন্ত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে লিখেছেন, আলোচনা চলমান রয়েছে। ভুয়া খবর ছাপানো সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্যদের ভুল দাবি সত্ত্বেও এগুলো খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি পোস্টে লিখেছেন, ইরানি সরকারের অনুরোধ অনুযায়ী... আমি জ্বালানি কেন্দ্র ধ্বংসের সময়সীমা ১০ দিন স্থগিত করেছি আগামী ৬ এপ্রিল ২০২৬ রাত ৮টা পর্যন্ত।
ট্রাম্প আগে অস্বীকার করেছিলেন যে, তিনি যুদ্ধ শেষ করার কোনো চুক্তির জন্য মরিয়া ছিলেন। যদিও ইরান মার্কিন শান্তি পরিকল্পনার প্রতি উদাসীন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ানোর আশঙ্কা ছিল।
ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ করার জন্য ওয়াশিংটনের ১৫-দফা পরিকল্পনার জবাবে দেশটির প্রতিক্রিয়া গত রাতে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়েছে এবং ইরান অপর পক্ষের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা মার্কিন ও ইসরাইলি হামলা বন্ধ এবং তেহরান সমর্থিত গোষ্ঠীর ওপর আক্রমণ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।
এতে যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানানোরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে, ট্রাম্পের এই ঘোষণার সময়েই ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।
শুক্রবার তেলের দাম এক শতাংশের বেশি কমেছে, যদিও আগের দিনের ঊর্ধ্বগতি আংশিকভাবে কেটে গেছে। বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন যে— সংঘাত সম্ভবত প্রথম দিককার ধারণার চেয়ে অনেক দীর্ঘ সময় চলতে পারে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ব্রেন্টের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে, অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
ওয়াল স্ট্রিটে ব্যাপক লোকসানের পর শেয়ার বাজারেও ধস নামে।
বছরের প্রথম দুই মাসে সবচেয়ে ভালো পারফর্ম করা টোকিও এবং সিউল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ছিল। অন্যদিকে হংকং, সিডনি, ওয়েলিংটন, তাইপেই, জাকার্তা এবং ম্যানিলায় তেলের দরও তীব্রভাবে কমে গিয়েছিল। সাংহাই এবং সিঙ্গাপুরের দর ওঠানামা করেছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বৃদ্ধির আশঙ্কায় ফেডারেল রিজার্ভের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সুদের হার শিগগিরই কমার সম্ভাবনা নেই।
অর্থনৈতিক প্রভাব আরও খারাপ হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড