নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের লেবানন শাখার প্রধান মরিন ফিলিপন জানিয়েছেন, দেশটিতে ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় অবশিষ্ট নেই বললেই চলে।
বৈরুত থেকে শুক্রবার (২৭ মার্চ) আল জাজিরার সঙ্গে আলাপকালে ফিলিপন এই দ্রুত অবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতির বর্ণনা দেন।
তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। লেবাননের প্রায় ১৪ শতাংশ এলাকার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক বাড়িঘর ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আদেশ থাকা সত্ত্বেও অনেক বেসামরিক নাগরিক আটকা পড়ে আছেন—কেউ এলাকা ছাড়তে পারছেন না, আবার কেউ ছাড়তে ইচ্ছুক নন।’
ফিলিপন জোর দিয়ে বলেন, ‘যুদ্ধের আইন অনুযায়ী আমাদের মনে রাখা খুব জরুরি, একজন বেসামরিক নাগরিক যদি এলাকা ছাড়তে না পারেন বা না চান, তাহলেও তিনি বেসামরিক হিসেবেই গণ্য হবেন। অর্থাৎ, তারা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে সুরক্ষার আওতাভুক্ত থাকবেন।’
এই সুরক্ষা সহায়তাকর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান ফিলিপন।
তিনি বলেন, ‘বেসামরিক নাগরিকেরা কখনোই লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন না, তেমনি সহায়তা কর্মীরাও কোনো লক্ষ্যবস্তু নন।’
লেবাননে যুদ্ধবিধ্বস্ত লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষকে সহায়তা দিতে গিয়ে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো যে ভয়াবহ অর্থসংকটে পড়ছে, সে বিষয়েও সতর্কবার্তা দেন ফিলিপন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অর্থসহায়তার প্রতিশ্রুতি আমরা পাইনি।’