নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে কে শনিবার (২৮ মার্চ) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গত বছর বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী অভিযান পরিচালনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
সেপ্টেম্বরে ঘটে যাওয়া এক গণঅভ্যুত্থানে ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে অনেকেই পুলিশের গুলিতে নিহত বিক্ষোভকারী ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা জারির ঘটনায় বিক্ষোভ শুরু হলেও দুর্নীতি ও দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এই আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে। পরে অস্থিরতা তদন্তে গঠিত একটি প্যানেল এই দুজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অবহেলার অভিযোগে মামলা করার সুপারিশ করে।
দেশটিতে সংকটকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৩৫ বছর বয়সী র্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া বালেন্দ্র শাহ শপথ নেওয়ার এক দিন পর এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল। তবে ৭৪ বছর বয়সী অলি ও ৬২ বছর বয়সী লেখকের বিরুদ্ধে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি। কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘তাদের আজ সকালে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।’
অলি এর আগে তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কমিশন সাবেক পুলিশপ্রধান চন্দ্র কুবের খাপুংকে গ্রেপ্তারেরও সুপারিশ করেছিল। অলি আনাপূর্ণা পোস্টকে বলেছিলেন, এগুলো ‘চরিত্র হনন ও ঘৃণার রাজনীতি’।
এদিকে অলির আইনজীবীরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তদন্তের এই পর্যায়ে তাকে আটক করা অযৌক্তিক। তিনি বলেন, ‘এটি অবৈধ ও অনুচিত। কারণ তার পালিয়ে যাওয়ার বা জিজ্ঞাসাবাদ এড়ানোর কোনো ঝুঁকি নেই।’
ইনস্টাগ্রামে নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং অলির গ্রেপ্তারকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বিক্ষোভের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। তিনি লিখেছেন, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়... এটি কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচারের শুরু।’
৮ সেপ্টেম্বর তথাকথিত জেন-জি বিক্ষোভের সময় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়, যার মধ্যে স্কুল ইউনিফর্ম পরা এক কিশোরও ছিল। সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দিলে তরুণরা রাস্তায় নেমে এ বিক্ষোভ শুরু করে। বেকারত্বের উচ্চ হার, স্থবির অর্থনীতি, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি নিয়ে ক্ষোভের মধ্যে শুরু হওয়া এই দমন-পীড়নের ঘটনায় সারাদেশে বড় ধরনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে আরও অনেক মানুষ নিহত হন এবং সংসদ ভবন, পুলিশ স্টেশন ও দোকানে আগুন দেওয়া হয়। বিক্ষোভে নিহত ৭৬ জনের পরিবারগুলো গত কয়েক মাস ধরে দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে।
বিক্ষোভের জেরে অলি ৯ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন। তবে ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বালেন্দ্র শাহর রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টি (আরএসপি) বিপুল জয় পায়। নেপালের নির্বাচনী ব্যবস্থায় এককভাবে কোনো দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন হওয়ায় কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম কোনো একক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করল।