ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সীমিত স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে এমন খবর প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
শনিবার (২৮ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের বদলে এই পরিকল্পনায় বিশেষ বাহিনী ও নিয়মিত সেনাদের মাধ্যমে খারগ দ্বীপ ও হরমুজ প্রণালির আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে তারা। তবে এসব অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন সেনারা ইরানের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, গুলি ও বিভিন্ন বিস্ফোরকের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব পরিকল্পনা অনুমোদন করবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্টকে সর্বোচ্চ বিকল্প দেওয়া পেন্টাগনের দায়িত্ব। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
ইরানে চলমান সংঘাত পঞ্চম সপ্তাহে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে, ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মেরিন মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের হাজারো সেনা পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইউএসএস ট্রিপোলি জাহাজে করে প্রায় সাড়ে তিন হাজার অতিরিক্ত সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। তারা ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের সদস্য এবং তাদের সঙ্গে যুদ্ধবিমানসহ উভচর হামলা চালানোর সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, গত এক মাসে প্রশাসনের অভ্যন্তরে খারগ দ্বীপ দখল এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশে বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজ লক্ষ করে ব্যবহৃত হতে পারে এমন অস্ত্র ধ্বংসের লক্ষ্যে অভিযান নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সম্ভাব্য এই অভিযানের সময়কাল নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। একজন কর্মকর্তা বলেছেন, এটি কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে, আরেকজনের মতে সময় লাগতে পারে দুই মাস পর্যন্ত।
তবে এ বিষয়ে পেন্টাগন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ইরানের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা