মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান শেষ করবে, যখন তারা নিশ্চিত হবে যে ইরান আর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। ওভাল অফিসে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বলেন, ‘ইরান চুক্তি করতে মরিয়া হয়ে আছে। তবে তা হোক বা না হোক, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই অভিযান শেষ হবে বলে আশা করছি।’
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, গত মাসের শেষ দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যে হামলা চালিয়েছিল, সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। তার মতে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সক্ষমতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছিল। সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছানোয় তারা এখন এই যুদ্ধ শেষ করার কথা ভাবছে।
তিনি বলেন, গত মাসের শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিমান হামলার আগে যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে অর্জন করেছে। তার মতে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সক্ষমতা সীমিত করার প্রধান লক্ষ্য পূরণ হয়েছে এবং এখন তারা ‘কাজটি পুরোপুরি শেষ করছে’।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের আকাশসীমায় আধিপত্য বিস্তার করেছে এবং বহু শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাকে হত্যার মাধ্যমে শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনও ঘটিয়েছে। তিনি তেহরানের নতুন নেতাদের ‘আগের তুলনায় কম উগ্র’ এবং ‘আরও যুক্তিসঙ্গত’ বলে বর্ণনা করেন। তার দাবি, ইরানের নেতারা যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি করার জন্য ‘অনুনয় বিনয় করছেন’, যদিও ইরান এর আগেই এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ট্রাম্প অবশ্য এ-ও বলেছেন, দুই পক্ষের মধ্যে কোনো চুক্তি ছাড়াও এই যুদ্ধ শেষ হতে পারে। এ ছাড়া যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক কার্যক্রম শেষ করলেই দাম কমে আসবে।
এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যদি প্রতিপক্ষরা নিশ্চিত করে, আবার সংঘাত হবে না, তাহলেই কেবল যুদ্ধ শেষের ব্যাপারে তেহরান আগ্রহ দেখাতে পারে।
এ ছাড়া মিত্র দেশগুলোরও কঠোর সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। তিনি যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশের সমালোচনা করে বলেছেন, তারা যেন হরমুজ প্রণালি থেকে নিজেরাই তেল সংগ্রহ করে, যুক্তরাষ্ট্র আর তাদের সাহায্য করতে পারবে না।
এদিকে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুদ্ধ শেষ হওয়া নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি অনেকটাই দৃশ্যমান। কালক্ষেপণ করতে কোনো ধরনের আলোচনা করে সময় নষ্ট করার বিষয়টিও ট্রাম্প মানবেন না বলেও জানান রুবিও। যদিও রুবিও যুদ্ধ বন্ধের কোনো সময়সীমার কথা উল্লেখ করেননি ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে।