বিবিসির বিশ্লেষণ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো ছাড়ার কথা ভাবছেন—এমন দাবি ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রধান শিরোনামে জায়গা করে নিলেও মহাদেশটির রাজনৈতিক নেতারা এ বিষয়ে বেশ নীরব রয়েছেন।
কেন এই নীরবতা?
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো ত্যাগের বিষয়টি ইউরোপের জন্য হবে চরম বিপর্যয়কর। যদিও যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় শক্তিগুলো সম্প্রতি প্রতিরক্ষা জোটের ভেতরে একটি 'ইউরোপীয় পিলার' বা স্তম্ভ তৈরির বিষয়ে কথা বলছে, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কম নির্ভরশীল থেকে নিজেদের প্রতিরক্ষায় আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, তারা এখনও গোয়েন্দা তথ্য থেকে শুরু করে কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ এবং আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল।
যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী সদস্য। পর্দার আড়ালে ইউরোপীয় নেতারা চরম উৎকণ্ঠার সঙ্গে আশা করছেন, ট্রাম্প যেন এই প্রতিরক্ষা জোটের দরজা চিরতরে বন্ধ করে না দেন। কারণ তারা বিশ্বাস করেন, ট্রাম্পের পক্ষে এমনটা করা অসম্ভব কিছু নয়।
এর আগেও তিনি ন্যাটোবিরোধী নানা বক্তব্য দিয়েছিলেন। তবে প্রতিবারই তাকে বুঝিয়ে-সুজিয়ে কিংবা স্তুতিবাক্য শুনিয়ে শান্ত রাখা গিয়েছিল।
তবে এবার চিত্রটি ভিন্ন। নিজ নিজ দেশের জনমতের ওপর ভিত্তি করে ইউরোপীয় নেতারা এবার অনড় অবস্থানে রয়েছেন।
তারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ ‘তাদের নয়’ এবং তারা এই সহিংসতার মধ্যে জড়িয়ে পড়তে চান না।
রাশিয়ার কাছাকাছি থাকা ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো—যেমন বাল্টিক রাষ্ট্র, পোল্যান্ড এবং নর্ডিক দেশগুলো—মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরবর্তী পদক্ষেপ দেখার জন্য চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।
ন্যাটোর মূল শক্তিই হলো এই অঙ্গীকার যে, কোনো একজন সদস্যের ওপর হামলা হলে তাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র যদি এই জোটে না থাকে, তাহলে সেই অঙ্গীকার তার গুরুত্ব হারাবে। ফলে মস্কোর দৃষ্টিকোণ থেকে এই জোটের যে প্রতিরোধমূলক শক্তি ছিল, তা অনেকাংশে ম্লান হয়ে যাবে।